সর্বশেষ :
শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে অতিথিকে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: শিক্ষামন্ত্রী সাশ্রয়ী দামে আসছে ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডার স্পোর্ট যুদ্ধের মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইরানিদের সংহতি, জমায়েতে বিস্ফোরণ নিখোঁজ যুবকের মরদেহ মিলল প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে সাভারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ পাহারা দিতে ‘প্রস্তুত নয়’ মার্কিন নৌবাহিনী রুশ তেল ছাড়া বিশ্ব জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল থাকা অসম্ভব: রাশিয়া ইরানে ক্ষমতাসীনদের হত্যা করা ‘খুবই সম্মানজনক’ : ট্রাম্প প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হান্ড্রেডে মুস্তাফিজ, বেথেল-ব্রুকসসহ সতীর্থ যারা ‘ইরানের নারী ফুটবলাররা সত্যিকারের বীর’

লেবানন থেকে দেশে ফিরলেন ১৮ বাংলাদেশি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২১-০৯-০৩, | ০৯:৩৭:৪৩ |

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় দেশে ফিরেছেন লেবাননে অসহায় অবস্থায় থাকা ১৮ বাংলাদেশি। বাংলাদেশ ও লেবানন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে শুক্রবার তাদের দেশে ফিরিয়ে আনে সংস্থাটি।  আইওএমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে  বলা হয়েছে, লেবানন ত্যাগের পূর্বে এসব অভিবাসীর কোভিড-১৯ পরীক্ষাসহ ভ্রমণপূর্ব পরিবহণ সহায়তা এবং মনোসামাজিক সেবার পাশাপাশি সুরক্ষামূলক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে আইওএম।  বাংলাদেশে পৌাঁছানোর পর তাদেরকে বাড়ি ফেরার খরচসহ অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হয়।  এসব অভিবাসীদের ভবিষ্যতে পুনরেকত্রীকরণেও সহায়তা দেবে জাতিসংঘের সংস্থাটি।

লেবাননে বিভিন্ন দেশের এক হাজারের বেশি অভিবাসীর ওপর পরিচালিত আইওএমের সাস্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, তাদের প্রায় অর্ধেকই দেশে ফিরতে চান।  এর কারণ দেশটির রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সরকারের পদত্যাগের ফলে সৃষ্ট গভীর অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থায় লেবাননের পরিস্থিতি ক্রমশ আরও খারাপের দিকে যাওয়া।  তাই ওই দেশে থাকা দূতাবাসগুলোতে দেশে ফিরতে চাওয়া অভিবাসীদের আবেদনের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে।

আইওএম পরিচালিত ওই জরিপে দেখা যায়, লেবাননে চলমান সঙ্কটের প্রভাবে অনেকেই চাকরি এবং জীবিকা হারিয়েছেন। ঠিকমত বেতন না দেওয়া, অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করা এবং চুক্তি লংঘনের মতো শোষণমূলক আচরণ করছেন নিয়োগকর্তারা। ফলে অভিবাসীরা কঠিন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।

আইওএম-এর সহায়তায় ফিরে আসা এক অভিবাসী বলেন, লেবাননে বসবাস করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে।  কারণ আমরা না পারছি নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে, না পারছি দেশে থাকা পরিবারকে কোনো ধরনের সহায়তা করতে। লেবাননে থাকা অভিবাসীদের বেঁচে থাকা এবং দেশে ফেরার জন্য সহায়তা প্রয়োজন। আমাকে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করায় আইওএমসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞ আমি।

আইওএমের লেবানন প্রধান ম্যাথিউ লুসিয়ানো বলেন, অনেক অভিবাসী আইওএমের সহায়তার জন্য আসছেন।  তারা চাকরি হারিয়েছেন।  অভিবাসীরা ক্ষুধার্ত।  তারা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না এবং অনিরাপদ বোধ করছেন।  অনেকে দেশে ফেরার জন্য মরিয়া, কিন্তু কোনো উপায় পাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত জরুরি সহায়তা জোরদার করার পাশাপাশি স্বেচ্ছায় মানবিক প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা বাড়ানো দরকার।

আইওএমের বাংলাদেশ মিশন প্রধান গিওরগি গিগাওরি বলেন, অর্থনৈতিক সঙ্কটের সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি যুক্ত হয়ে লেবাননে থাকা বাংলাদেশি অভিবাসীদের ঝুঁকি আরও বহুগুণে বাড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অসহায় অভিবাসীদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পুনরেকত্রীকরণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার, দাতা সংস্থা এবং অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাব।

লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) এবং হেড অব চ্যান্সেরি আবদুল্লাহ আল মামুন বাংলাদেশি অভিবাসীদের দেশে ফিরতে সহায়তা করায় আইওএমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অসহায় অভিবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে অংশীদারিত্ব এবং পারষ্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, অসহায় অবস্থায় থাকা অভিবাসীদের দেশে ফিরিয়েআনার এই প্রক্রিয়াটি একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা।  বালি প্রসেসের ‘ভলান্টারি রিটার্নস সাপোর্ট অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ এবং নেদারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আটকে পড়া অভিবাসীদের সহায়তা ও সুরক্ষা প্রদান, বিশেষ করে, মানবপাচার ও মানব চোরাচালানের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য পরিচালিত আইওএমের ‘কোঅপারেশন অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড পার্টনারশিপ ফর সাসটেইনেবল সলিউশন (কম্পাস)’ এর সমন্বিত উদ্যোগে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

লেবাননের অধিবাসী এবং সেদেশে অসহায় অভিবাসীদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা এবং বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে একটি সমন্বিত এবং বহুখাতভিত্তিক ৩৭৮.৫ মিলিয়ন ডলারের ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স প্লান (ইআরপি) ২০২১-২-২২’ হাতে নিয়েছে আইওএম।

 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..