সর্বশেষ :
রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনে ৬ কমিটি প্রবাসী আয়ে সুবাতাস, ৮ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৯১৫ মিলিয়ন ডলার কোন পথে এগোচ্ছে ট্রুডো-কেটি পেরির প্রেম? গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনে যেন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি বিকৃত না হয় : তথ্যমন্ত্রী ব্রেট লির মতে, শচীন সেরা ব্যাটার হলেও সর্বকালের সেরা ক্যালিস মেয়েকে গণধর্ষণ মামলায় মায়ের ১৫ বছরের কারাদণ্ড সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী একজন, বাদ পাঁচ প্যানেল ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হলেও নির্ভার রাবাদা বামপন্থার অবসান, ফিরল ডানপন্থী শাসন: কেন দে লা এসপ্রিয়েলার ওপর বাজি ধরলেন ট্রাম্প? দেশ গঠনে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ধারণার চেয়েও দ্রুত সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করছে ইরান: মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২১, | ১৮:১৪:২৮ |

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা সত্ত্বেও ইরান তার সামরিক সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প খাত প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত পুনর্গঠন করছে বলে দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গত এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে তেহরান ইতোমধ্যেই ড্রোন উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে, যা মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো দ্রুত সচল করার একটি বড় লক্ষণ। 

মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যেখানে দাবি করেছিল ইরানের সামরিক শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তা পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগবে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো সেই দাবির সঙ্গে একেবারেই মিলছে না। বরং গোয়েন্দাদের মতে, কয়েক বছর নয়, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ইরান তার আগের অবস্থানে ফিরে আসতে পারে।

মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন উৎপাদন ও হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ইরানের বড়জোর ছয় মাস সময় লাগতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু করেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের মিত্রদের জন্য ইরান যে এখনো বড় ধরনের হুমকি, এই দ্রুত পুনর্গঠন তারই প্রমাণ দিচ্ছে। একইসঙ্গে ইরানের সামরিক শক্তি দীর্ঘমেয়াদে কতটা পঙ্গু করা গেছে, তা নিয়েও এখন খোদ মার্কিন প্রশাসনেই প্রশ্ন উঠছে। 

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। বর্তমানে ইরানের প্রায় অর্ধেক ড্রোন এবং দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (লঞ্চার) অক্ষত রয়েছে। এ ছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরির জন্য দেশটির উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি বড় অংশই এখনো কার্যকর রয়েছে।

ইরানের এত দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে মূলত রাশিয়া ও চীনের পরোক্ষ সহযোগিতা এবং মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে আসছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সাক্ষাৎকারে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও অসত্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। 

অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে সামগ্রিক গোয়েন্দা চিত্র বলছে, চলমান যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা হ্রাস করলেও তাদের মূল প্রতিরক্ষা কাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে পারেনি এবং যুদ্ধবিরতির সুযোগে তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের শক্তি পুনর্গঠন করে চলেছে।

সূত্র: সিএনএন

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..