✕

সর্বশেষ :
ই-পার্লামেন্টে অনলাইনে যুক্ত হবে সংসদের কার্যক্রম মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগমুহূর্তে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিকের মৃত্যু দুই ব্যাংকের পর্ষদে ৫ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ বছর শেষে ইসরায়েলের জন্য মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের ইউরোপের সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলার নেপথ্যে কারা? ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান ৬’-এ ফিরতে শর্ত দিয়েছেন জনি ডেপ ৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করেও বৈষম্য কমাতে পারছে না ভারত নিউইয়র্কে তিন দশকের মধ্যে হামে প্রথম শিশুর মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রে ফের বাড়ছে সংক্রমণ তাপমাত্রা নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করেও বৈষম্য কমাতে পারছে না ভারত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৪, | ০১:৩২:০৯ |

মাত্র ১২ বছরে প্রায় ৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছে ভারত। 

বিশ্বব্যাংকের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে চরম দারিদ্র্যের হার ২০১১ সালের ২৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। 

তবে দারিদ্র্য কমলেও দেশটিতে ধনী-দরিদ্রের আয় ও সম্পদের বৈষম্য আরও গভীর হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ের মানুষকে চরম দরিদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৯ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছে। দৈনিক ৪ দশমিক ২০ ডলারের কম আয়ের জনগোষ্ঠীর হারও একই সময়ে ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ১৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক দারিদ্র্য অর্থনীতিবিদ আয়াগো ওয়ামবিলের নেতৃত্বে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের ভোগব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান এবং খাদ্য ভর্তুকিসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি দারিদ্র্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দারিদ্র্য হ্রাসের এই অগ্রগতিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা কর্মসূচি চালু হয়েছিল। পরে মোদি সরকারের আমলে বিনা মূল্যে খাদ্যশস্য, নগদ অর্থ সহায়তা, আবাসন এবং স্যানিটেশন কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়। গ্রামীণ এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানির সংযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে দারিদ্র্য কমার পাশাপাশি আয়বৈষম্য বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদেরা। ২০২৬ সালের বিশ্ব বৈষম্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের হাতে জাতীয় আয়ের প্রায় ৫৮ শতাংশ কেন্দ্রীভূত। বিপরীতে, নিম্ন আয়ের ৫০ শতাংশ মানুষের ভাগে রয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ।

এছাড়া কর্মসংস্থানের সংকট, স্থবির মজুরি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত সরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শীর্ষ ১০ শতাংশ কর্মীর মধ্যম আয় ছিল সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ কর্মীর তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দারিদ্র্য কমানোর পাশাপাশি আয়বৈষম্য মোকাবিলায় প্রগতিশীল করব্যবস্থা, মানসম্মত সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। তাদের সতর্কতা, দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতি সত্ত্বেও দৈনিক ৪ দশমিক ২০ ডলারের কম আয়ে এখনও প্রায় ২৩ কোটি ৩০ লাখ ভারতীয়ের জীবন কাটছে। সূত্র: আল-জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..