✕


বাতিলের পথে ‘লিপ সেকেন্ড’, বদলে যেতে পারে সময় গণনা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৭, | ০২:৪১:১০ |

পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে ঘড়ির সময় মেলাতে মাঝেমধ্যে যোগ করা হয় বাড়তি এক সেকেন্ড। ‘লিপ সেকেন্ড’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার কথা আন্তর্জাতিক সময়মান নির্ধারকদের। সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেলে পরিবর্তন কার্যকর হবে ২০২৭ সালের মে মাসে।

প্যারিসের কাছে ভার্সাইয়ে আন্তর্জাতিক ওজন ও পরিমাপ ব্যুরোর (বিআইপিএম) ৬৯ সদস্যদেশের বৈঠকে প্রস্তাবটি উঠবে। ২০২২ সালে তারা ২০৩৫ সালের মধ্যে লিপ সেকেন্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার পক্ষে ভোট দিয়েছিল।

সময় মাপার দুটি পদ্ধতির সমন্বয় করে লিপ সেকেন্ড। একটি পৃথিবীর ঘূর্ণনভিত্তিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সময়। অন্যটি পরমাণুর স্বাভাবিক কম্পন মেপে চলা অতি নির্ভুল ঘড়িনির্ভর বৈশ্বিক মানসময় বা ইউটিসি।

পৃথিবী একই গতিতে ঘোরে না। চাঁদের আকর্ষণ, পৃথিবীর কেন্দ্রের পরিবর্তন এবং পানি ও বরফের স্থানান্তর এতে প্রভাব ফেলে। দুই পদ্ধতির সময় মেলাতে ১৯৭২ সাল থেকে ২৭ বার বাড়তি সেকেন্ড যোগ করা হয়েছে।

কিন্তু অনিয়মিত বিরতিতে, মাত্র ছয় মাসের নোটিশে এই পরিবর্তন প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সমস্যা তৈরি করে। ২০১২ সালে রেডিট, লিংকডইন ও কান্তাসের বুকিং ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছিল। সর্বশেষ ২০১৬ সালের শেষে লিপ সেকেন্ড যোগের পর ক্লাউডফ্লেয়ারেও সাময়িক সমস্যা হয়।

এখন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে উল্টো সম্ভাবনা—এক সেকেন্ড বাদ দেওয়া। দীর্ঘ মেয়াদে ঘূর্ণন ধীর হলেও সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবী কিছুটা দ্রুত ঘুরছে। বিআইপিএমের উদ্ধৃত হিসাবে, ২০৩৫ সালের মধ্যে সেকেন্ড বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

এমন পরিবর্তন আগে কখনো হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পরিচালকেরা অনেকটাই অপ্রস্তুত। বিআইপিএমের মতে, প্রস্তুতির ব্যয় ওয়াই২কে কম্পিউটার সমস্যার প্রস্তুতির মতো হতে পারে।

তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক মারেক জিবার্ট মনে করেন, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। তার মতে, পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সময়ের সম্পর্ক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবস্থা বদলালেও সফটওয়্যার পরীক্ষা ও সংশোধন করতে হবে।

নতুন প্রস্তাবে পারমাণবিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সময়ের ব্যবধান ধীরে বাড়তে দেওয়া হবে। তবে সর্বোচ্চ সীমা হবে এক ঘণ্টা। সেখানে পৌঁছাতে তিন হাজার বছরের বেশি লাগবে বলে জানিয়েছেন বিআইপিএমের পাত্রিৎসিয়া তাভেলা।

তখন ‘লিপ আওয়ার’ দিয়ে সমন্বয় করা হবে কি না, তা ঠিক করবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। গ্রিনিচ মানমন্দিরের জ্যেষ্ঠ কিউরেটর লুইজ ডিভয়ের মতে, অধিকাংশ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বর্তমান পরিবর্তনের প্রভাব হবে সামান্য।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..