✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৭, | ০২:৩৪:৪৩ |স্কটল্যান্ডের পেসার ব্র্যাড হুইল পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা নিয়েছেন। ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জানিয়েছেন, বারবার গুরুতর চোট পাওয়ার পর তার শরীর আর ফাস্ট বোলিংয়ের ধকল সইতে পারছে না।
২০১৬ সালে হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে স্কটল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয় হুইলের। এরপর তিনি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে মোট ৪৪টি ম্যাচ খেলে ৫১টি উইকেট নিয়েছেন। এই ক্রিকেটার চারটি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ২০২১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে এবং ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
হুইল হ্যাম্পশায়ারের হয়েও বিভিন্ন ফরম্যাটে ১৩১টি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি ২০১৮ সালে ‘রয়্যাল লন্ডন ওয়ান-ডে কাপ’ এবং ২০২২ সালে ‘ভাইটালিটি ব্লাস্ট’ শিরোপা জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। অবসরের ঘোষণায় হুইল বলেন, হ্যাম্পশায়ারে কাটানো সময় এবং পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে স্কটল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা আমি দারুণ উপভোগ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বারবার চোট পাওয়ার কারণে আমি বাধ্য হয়ে ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ডানহাতি এই বোলার বলেন, সিদ্ধান্তটি নেওয়া সহজ ছিল না, তবে এখন আমি মানসিকভাবে শান্ত আছি। আমার পিঠে চারবার ‘স্ট্রেস ফ্র্যাকচার’ হয়েছে এবং সম্প্রতি হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। সব মিলিয়ে, আমার শরীর আর ফাস্ট বোলিংয়ের ধকল সামলাতে পারছে না।
তিনি বলেন, দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়াটা আমার ও আমার পরিবারের কাছে সবসময়ই অনেক বড় ব্যাপার ছিল; এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমি সবসময় গর্ববোধ করব। চারটি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয় ছিল এবং এই যাত্রায় আমি দারুণ কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমি আজীবনের জন্য কিছু বন্ধু পেয়েছি এবং চমৎকার সব মানুষের সঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করেছি—এই বিষয়গুলোকেই আমি সবচেয়ে বেশি মিস করব।
ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের হেড অফ পারফরম্যান্স স্টিভ স্নেল ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এবং বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়গুলোতে হুইলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ব্র্যাড গত এক দশকে স্কটিশ ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের অগ্রযাত্রায় তিনি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। চারটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করা একটি অসাধারণ অর্জন।
তিনি আরও বলেন, ব্র্যাড বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে বারবার নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার পারফরম্যান্স এবং বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্মরণীয় জয়গুলোতে তার অবদান।এই পারফরম্যান্সগুলোর বাইরেও ব্র্যাড স্কটল্যান্ড দলে প্রচুর অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে এসেছেন। উচ্চপর্যায়ের পেশাদার ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা, একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে তার চমৎকার দক্ষতা দেখিয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে তার অবদান ও নিষ্ঠার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। তার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য আমরা তার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।