রংপুরে শরতেই গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতের আমেজ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০১, | ০১:০৫:২৩ |

শরৎ মানেই নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলা আর ভোরের মিষ্টি হিমেল পরশ। তবে এবার রংপুরে যেন শরতের চেনা রূপের সঙ্গে যোগ হয়েছে অন্য ঋতুর আবহও। প্রকৃতির খেয়ালে একই দিনে কখনো গ্রীষ্মের তীব্র গরম, কখনো বর্ষার বৃষ্টি, আবার ভোরে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক শরতেই যেন চার ঋতুর স্বাদ পাচ্ছেন রংপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ।

গত কয়েকদিনের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে এমন বৈচিত্র্যই দেখা গেছে। রবিবার বৃষ্টিতে ভিজেছে বিভিন্ন এলাকা। পরদিন সোমবার সকাল থেকেই আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে গরমের তীব্রতা। দুপুরে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন মানুষ। এরই মধ্যে আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের ভেলা মনে করিয়ে দিয়েছে শরতের চিরচেনা সৌন্দর্য।

অন্যদিকে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কোথাও কোথাও দেখা মিলছে শিশিরবিন্দুর। ভোরের বাতাসে অনুভূত হচ্ছে হালকা শীতের আমেজ। ফলে দিনের তীব্র গরম আর রাতের হিমেল পরিবেশের মধ্যে তৈরি হচ্ছে স্পষ্ট পার্থক্য।

বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এখন শরৎকাল। ভাদ্র ও আশ্বিন দুই মাস নিয়ে শরৎ ঋতু। এ সময় সাধারণত নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর কাশফুলে প্রকৃতি সাজে নতুন রূপে। কিন্তু এবার রংপুর অঞ্চলে সেই চেনা শরতের সঙ্গে মিশেছে বর্ষা ও শীতের আবহ।

কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির কারণে ভোরে কিছুটা শীতের অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও বৃষ্টি ও উজানের ঢলের প্রভাবে বর্ষার আবহও বিরাজ করছে। আবার বৃষ্টি থামার পর দিনের বেলা বাড়ছে গরম। ফলে একই দিনে কখনো বর্ষা, কখনো গ্রীষ্ম, আবার কখনো শীতের অনুভূতি পাচ্ছেন স্থানীয়রা।

এদিকে কিছুদিন আগে তিস্তার পানি বৃদ্ধির যে প্রভাব তৈরি হয়েছিল, তার রেশও পুরোপুরি কাটেনি। বিভিন্ন এলাকায় এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পরে দিনে প্রচণ্ড গরম আবার ভোররাতে শীতের আমেজ বিরাজ করছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শরৎকালে এমনটা না হওয়ার কথা থাকলেও এমনটাই হচ্ছে। দিনের বেলা ভ্যাপসা গরম আর ভোরে ঠান্ডায় অধিকাংশ বাড়িতেই দেখা দিয়েছে জ্বরশর্দি কাশি। এমন জ্বরশর্দি নিয়ে অনেকেই বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন। কখনো বৃষ্টি, কখনো প্রচণ্ড গরম, আবার ভোরে ঠান্ডা বাতাস ও শিশির।

রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় রংপুরসহ আশপাশের এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং বিকেল ৩টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এসময় এ অঞ্চলের আবহাওয়া এমন থাকে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..