সাড়ে ৩ কিলোমিটার কাদার সাগর, ২০ হাজার মানুষের ‘বন্দিজীবন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৯, | ১৪:২২:৫৫ |

একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা নয়, যেন কাদার সাগর! কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও আবার তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। নেই যান চলাচলের উপায়। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে ভ্যান ঠেলেই পাড়ি দিতে হয় কাদাময় পথ। স্কুল-কলেজে যেতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ, কৃষিপণ্য বাজারে নিতে কৃষকদের বিড়ম্বনা। এমনকি বিয়ে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানেও অতিথিদের যাতায়াত হয়ে ওঠে দুঃস্বপ্ন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বড়বাড়্ডা থেকে দক্ষিণ বড়বাড়্ডা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের এমনই বেহাল দশা।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকা বা কার্যকরভাবে সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বড় খালপাড়, জয়াইর, হাদুল্লাপুরসহ আট গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

বুকে ব্যথা, হাসপাতালে নিতে ভ্যান ঠেললেন স্বজনরা

হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা ওঠে ষাটোর্ধ্ব সাফি বেগমের। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাড়ির সামনে কাদাময় সড়ক। কোনো যানবাহন ঠিকমতো চলার উপায় নেই। শেষ পর্যন্ত স্বজনরা ভ্যান ঠেলে কাদা-পানি মাড়িয়ে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাফি বেগমের মতো এমন দুর্ভোগ তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। জরুরি রোগী, গর্ভবতী নারী কিংবা বয়স্ক মানুষকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়তে হয়।

বৃষ্টি এলেই ‘অচল’ সাড়ে ৩ কিলোমিটার

উত্তর বড়বাড়্ডা থেকে দক্ষিণ বড়বাড়্ডা পর্যন্ত পুরো সড়কই কাঁচা। বর্ষা শুরু হলেই সড়কের চেহারা বদলে যায়। বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয় অসংখ্য গর্ত। কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা। বন্ধ হয়ে যায় ভ্যান, অটোরিকশা কিংবা অন্যান্য ছোট যানবাহন চলাচল।

স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল দাস জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কের বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের।

৮ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা এই সড়ক

বড় খালপাড়, জয়াইর, হাদুল্লাপুরসহ আট গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ এটি। প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত নির্ভর করছে এই সড়কের ওপর। অথচ বছরের পর বছর সড়কটি কাঁচাই রয়ে গেছে।

বিকল্প সড়ক না থাকায় কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। উৎপাদিত কৃষিপণ্য কাঁদাময় পথ পেরিয়ে বাজারে নিতে বাড়ছে সময় ও পরিবহন খরচ। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো পণ্য বাজারে নিতে না পারায় ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন কৃষকেরা। কলেজ পড়ুয়া সায়মন ইসলাম বলেন, রাস্তার কারণে থমকে যায় সামাজিক জীবন।

শুধু যাতায়াত নয়, সড়কের দুরবস্থার প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও। বর্ষা মৌসুমে কাঁদাময় সড়কের কারণে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা জরুরি প্রয়োজনে আত্মীয়স্বজনের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে।

খালেক কবিরাজ নামে স্থানীয় ব্যবসায়ীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার ও পাকা করার দাবি জানিয়ে এলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ নতুন করে ফিরে আসে।

দুর্ভোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন

সড়কের দুরবস্থা দূর করতে সম্প্রতি মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকা করার দাবি জানান তারা।

তাদের প্রশ্ন- প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যে সড়ক দিয়ে চলাচল করেন, আট গ্রামের ২০ হাজার মানুষের যাতায়াত যে পথের ওপর নির্ভরশীল, সেই সড়ক আর কতদিন কাঁচা থাকবে?

দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস এলজিইডির

এ বিষয়ে মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী হায়দার খান বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা দুর্ভোগের অবসানে এবার দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্ষার কাদায় আটকে থাকা সড়কটি সংস্কার হলে আট গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও ফিরবে স্বাভাবিক গতি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..