✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৫, | ১৮:১১:৩৯ |ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের ঘোষণার পর নিজেদের স্বার্থ রক্ষার ঘোষণা দিয়েছে চীন। মার্কিন সরকারের এই নতুন পদক্ষেপে বেইজিং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন আশঙ্কার মুখেই এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা বলে আখ্যায়িত করে তীব্র বিরোধিতা করেন।
তিনি স্পষ্ট জানান, চীন আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সব ধরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। চীনের ওপর এর প্রভাব সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, চীন ও ইরানের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা সবসময় আন্তর্জাতিক আইনের অধীনেই পরিচালিত হয়ে আসছে এবং এই সুসম্পর্কে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত বা হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
এর আগে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নতুন এই অর্থনৈতিক চাপকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত সবচেয়ে বড় আর্থিক আক্রমণ বলে অভিহিত করেন। তিনি সতর্ক করে জানান, যেসব ব্যাংক বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, তারাও তাদের মতোই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একঘরে হয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শীঘ্রই বিশ্বনেতাদের কাছে ইরানের সাথে সব ধরনের লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করার সুনির্দিষ্ট বার্তা পাঠাবেন। চীনা ব্যাংকগুলোর বিষয়ে বিশেষ প্রশ্ন করা হলে তিনি হুঁশিয়ার করে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে কেউ সুরক্ষিত নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের জবাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানও। দেশটির অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী আলী মাদানিকাদেহ মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে জানান, বেইজিং ও তাদের কৌশলগত মিত্ররা এই পরিস্থিতির জন্য পুরোদমে প্রস্তুত। ইরান সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের দুই বছরের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়াশিংটনকে বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব উপযুক্ত হাতিয়ার রয়েছে এবং গেম কীভাবে খেলতে হয় তা আমাদের জানা আছে।
সূত্র: বিবিসি