উচ্চ ব্যয় ও শ্রমিক সংকটে জার্মানিতে এক বছরে বন্ধ প্রায় ২ লাখ প্রতিষ্ঠান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২১, | ১৬:৪৪:৫৬ |

ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং দক্ষ শ্রমিকের সংকটে বিপুলসংখ্যক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি।

জার্মানির লাইবনিজ সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান ইকোনমিক রিসার্চ (জেডইডব্লিউ) ও ঋণমান নির্ধারণী সংস্থা ক্রেডিটরিফর্মের যৌথ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, চীনের সস্তা পণ্যের সঙ্গে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা এবং বিদ্যুৎ ও শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি জার্মানির ব্যবসা খাতে চাপ বাড়িয়েছে। এসব কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। শুধু আর্থিক সংকটে পড়ে নয়, অনেক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার আগেই স্বেচ্ছায় ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। এমনকি আর্থিকভাবে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনায় কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

ব্যবসা বন্ধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির আতিথেয়তা বা হোটেল-রেস্তোরাঁ খাত। ২০২৫ সালে এ খাতে প্রায় ১৫ হাজার প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।

স্বাস্থ্য খাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। এ খাতে গত বছর প্রায় ১১ হাজার ব্যবসা কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। এর মধ্যে চিকিৎসকদের অবসর এবং ভালো চিকিৎসক না পাওয়ার কারণে চিকিৎসাকেন্দ্র ও ক্লিনিক বন্ধের হার ২৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজারে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যবসা বন্ধের প্রকৃত চিত্র আরও উদ্বেগজনক। কারণ আইনি প্রক্রিয়ায় দেউলিয়া ঘোষণার মাধ্যমে বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মোট বন্ধের মাত্র ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই মালিকদের স্বেচ্ছায় নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে কার্যক্রম বন্ধ করেছে।

বিশেষ করে পারিবারিক মালিকানাধীন ব্যবসাগুলোতে উত্তরসূরি সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৯ শতাংশ বয়স্ক মালিকদের অবসরে যাওয়ার কারণে বন্ধ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ পরিচালন ব্যয়, শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে জার্মানির ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..