সর্বশেষ :
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই : অ্যাটর্নি জেনারেল কার্তিক আরিয়ানের হাঁটুতে অস্ত্রোপচার, কী হয়েছে অভিনেতার দাবানলে পুড়ছে পর্তুগাল, আগুন নেভাতে কাজ করছে ২০০০ দমকলকর্মী ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে বিপদে পড়বে উপসাগরীয় দেশগুলো? ডারউইনের চেয়ে ১০ ডিগ্রি কম তাপমাত্রা, ম্যাকাইয়ে কন্ডিশনের পরীক্ষায় বাংলাদেশ পাইলটদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি: গবেষণা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কাজে লাগাতে মহাসড়কে নামছে ৬০ অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া কেন কাটছাঁট হলো? হালাল খাদ্যসংস্কৃতি ও মূল্যবোধ মানবসভ্যতার জন্য একটি বড় সম্পদ : তথ্যমন্ত্রী ‘টাকার বিনিময়ে সোনাক্ষীর বিরুদ্ধে ট্রোল’, অভিযোগ বাবা শত্রুঘ্ন সিনহার

ইএসপিএনের প্রতিষ্ঠাতা বিল রাসমুসেন মারা গেছেন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৯, | ১১:১৩:২৪ |

চব্বিশ ঘণ্টার ক্রীড়া টেলিভিশনের ধারণা দিয়ে বিশ্বজুড়ে স্পোর্টস সম্প্রচারের চেহারা বদলে দেওয়া ইএসপিএনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল রাসমুসেন আর নেই। ৯৩ বছর বয়সে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজ বাড়িতে মারা গেছেন তিনি। পারকিনসন রোগের জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন।

১৯৭৮ সালে চাকরি হারানোর পর ছেলে স্কট রাসমুসেনের সঙ্গে মিলে ২৪ ঘণ্টার একটি ক্রীড়া টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন বিল। সীমিত অর্থ ও প্রায় ৯ হাজার ডলারের ক্রেডিট কার্ড ঋণ নিয়ে শুরু করা সেই উদ্যোগই পরের বছর জন্ম দেয় ইএসপিএনের।

ইএসপিএনের ধারণার শুরু ১৯৭৮ সালের এক শুক্রবার বিকেলে। কানেটিকাটের মহাসড়কে যানজটে আটকে ছিলেন বিল ও তার ছেলে স্কট। তখন কেবল টেলিভিশনে সার্বক্ষণিক খেলাধুলা দেখানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন তারা।

শুরুতে পরিকল্পনা ছিল শুধু কানেটিকাটের স্থানীয় খেলাধুলা সম্প্রচার করা। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা বদলে যায়। তারা ভাবতে শুরু করেন, কেন একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ক্রীড়া নেটওয়ার্ক হবে না?

অনেকে তখন সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন—২৪ ঘণ্টা সম্প্রচারের মতো পর্যাপ্ত খেলাধুলা কোথায় পাওয়া যাবে? তবে বিল ছিলেন নিজের ধারণার ব্যাপারে দৃঢ়। শেষ পর্যন্ত গেটি অয়েলের বিনিয়োগ, এনসিএএর সঙ্গে সম্প্রচার চুক্তি এবং অ্যানহয়জার-বুশের বিজ্ঞাপন চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পায়।

১৯৭৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় ইএসপিএনের সম্প্রচার শুরু হয়। প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৪ লাখ বাড়িতে পৌঁছেছিল নতুন এই নেটওয়ার্ক। উদ্বোধনী সম্প্রচারের অন্যতম প্রধান অনুষ্ঠান ছিল ‘স্পোর্টসসেন্টার’, যা পরবর্তীতে ক্রীড়া সংবাদ পরিবেশনের অন্যতম পরিচিত অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে।

প্রতিষ্ঠার সময় নেটওয়ার্কটির নাম ছিল ‘এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড স্পোর্টস প্রোগ্রামিং’। পরে সংক্ষিপ্ত হয়ে নাম হয় ইএসপিএন।

বিল রাসমুসেন ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রথম প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী। তার উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার ক্রীড়া সম্প্রচারের পাশাপাশি কলেজ বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন সম্প্রচারের পথও খুলে যায়।

তবে ইএসপিএনের সঙ্গে তার সক্রিয় সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। পরবর্তী সময়ে ইএসপিএনের মালিকানায় বড় পরিবর্তন আসে এবং বিলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ভূমিকা ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়।

ইএসপিএন থেকে সরে যাওয়ার পরও ক্রীড়া সম্প্রচার ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাসমুসেন। বিভিন্ন ক্রীড়া সম্প্রচারস্বত্ব ও গণমাধ্যম উদ্যোগে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ১৯৯৯ সালে ইএসপিএনের ২০ বছর পূর্তির সময় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার পুরোনো দূরত্ব কমতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি তাকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিভিন্নভাবে সম্মান জানায়।

২০২৫ সালে স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন রাসমুসেন। তাকে স্মরণ করে ইএসপিএন চেয়ারম্যান জিমি পিটারো বলেছেন, তার উদ্ভাবনী চিন্তা, পরিশ্রম ও উদ্যোক্তা মানসিকতার প্রভাব প্রতিষ্ঠানটির সংস্কৃতিতে এখনো রয়েছে।

ইএসপিএনের প্রবীণ উপস্থাপক ক্রিস বারম্যানও রাসমুসেনকে ‘আমাদের জর্জ ওয়াশিংটন’ হিসেবে স্মরণ করেছেন।

২০১৯ সালে রাসমুসেন প্রকাশ্যে জানান, তার পারকিনসন রোগ ধরা পড়েছিল কয়েক বছর আগে। এরপর তিনি পারকিনসন রোগীদের জন্য কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

১৯৩২ সালের ১৫ অক্টোবর শিকাগোতে জন্ম নেওয়া রাসমুসেন ডিপাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন। পরে রেডিও ও টেলিভিশনে কাজের মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার শুরু হয়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..