সর্বশেষ :
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান বাড়ানো দরকার : শিক্ষামন্ত্রী ঢাকায় লিথুয়ানিয়ার ভিসা সেন্টার খোলার অনুরোধ পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ দিল্লির বস্তিতে ৫৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বেঁচে থাকার গল্প জনবল নিয়োগ দিচ্ছে সাউথইস্ট ব্যাংক ‘লাইক’-এর নেশায় উল্টো পথে গাড়ি, প্রাণ গেল ৫ কিশোরের ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড়ে নিহত ২৩, বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ 'বস্ত্র-পাট খাতের আধুনিকায়নে চীনের সহযোগিতা কাজে লাগানো হবে' বিকল্প ফ্লাইটে নেপাল থেকে দেশে ফিরেছেন ১২৭ যাত্রী 'নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের রয়েছে অভূতপূর্ব সমর্থন'

দিল্লির বস্তিতে ৫৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বেঁচে থাকার গল্প

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৭, | ১৪:২৫:২৯ |

দিল্লির তীব্র দাবদাহে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বস্তি এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ। উত্তর-পূর্ব দিল্লির সুন্দর নগরীর বস্তিতে কোথাও তাপমাত্রা ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠছে। এই অসহনীয় গরমে কীভাবে দিন কাটছে, তার হিসাব নিজেরাই লিখে রাখছেন স্থানীয় প্রায় ৪০টি পরিবার।

গ্রিনপিস ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় তৈরি করা এসব ডায়েরির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গর্মি খাতা’ বা হিট রেজিস্ট্রি। এতে শুধু তাপমাত্রার হিসাব নয়, গরমে মানুষের শারীরিক কষ্ট, আয় কমে যাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার কথাও উঠে আসছে।

৩৯ বছর বয়সী গুলশান চার সন্তানকে নিয়ে এক কক্ষের ঘরে থাকেন। এসি কেনার সামর্থ্য নেই। সস্তা এয়ার কুলার থাকলেও বিদ্যুৎ বিলের কারণে সেটি দীর্ঘ সময় চালাতে পারেন না। তাই রাতে ঘুমানোর সময় মেঝে ও কাপড় ভিজিয়ে রাখেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় ব্যবহারের কারণে পরিবারের সদস্যদের চর্মরোগ ও ত্বকের সংক্রমণ হচ্ছে।

১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আরশিও গরমের সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারের ছয় সদস্যের সঙ্গে এক কক্ষে থাকেন তিনি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরশিক্ষণে পড়াশোনার পাশাপাশি মা ও বোনের সঙ্গে ট্রাকের জন্য আলংকারিক ঝালর তৈরি করেন। দিনে তাদের আয় প্রায় ১৫০ রুপি।

ছোট ঘরে অতিরিক্ত তাপ ও ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ আর্দ্রতার কারণে সেখানে ফিলস-লাইক তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এতে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

তীব্র গরমে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভাসমান সবজি বিক্রেতা ২১ বছর বয়সী রাজা। প্রচণ্ড তাপে সবজি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় তার আয়ও কমেছে। রাতে ঘরের তাপমাত্রা কমে না আসায় তাকে টিনের ছাদে ঘুমাতে হয়।

এদিকে, ভারত সরকার সম্প্রতি তাপপ্রবাহকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে রাজ্যগুলো জরুরি ত্রাণ তহবিল ব্যবহার করতে পারবে।

সুন্দর নগরীর বাসিন্দাদের এসব অভিজ্ঞতা এখন ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছেও তুলে ধরা হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও অধিকারকর্মীরা চরম তাপকে মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে মানুষের অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছালে তাপপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, বিশেষ করে বস্তিবাসী ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষের জন্য আরও কার্যকর সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে।

সূত্র: গার্ডিয়ান 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..