কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি দেওয়া নতুন শুল্ক বুধবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর আগে একটি চুক্তিতে পৌঁছে শুল্কের চাপ কমানোর চেষ্টা করছে কানাডা।
গত তিন সপ্তাহে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। কানাডার আলোচকেরা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না হলে শত শত কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কানাডা তাদের গাড়ি, দুগ্ধ ও অ্যালকোহল খাতের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। অন্যদিকে, কানাডা বিদ্যমান শুল্ক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতকে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি নতুন শুল্ক এড়াতে চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে মার্কিন অ্যালকোহল পণ্যের ওপর কানাডার প্রাদেশিক বিধিনিষেধ। ওয়াশিংটন এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেশগুলোকে মার্কিন অ্যালকোহল পণ্যের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে প্রাদেশিক সরকারের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কানাডার গাড়ি শিল্প ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে চাপে রয়েছে। ওয়াশিংটন কানাডার অটোমোবাইল নীতিকে নিজেদের শিল্পের জন্য বৈষম্যমূলক বলে মনে করছে। কানাডা এই খাতে অতিরিক্ত শুল্কের চাপ কমাতে এবং বিদ্যমান ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি পেতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
কানাডার দুগ্ধবাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিয়েও দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন কানাডার সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা ও বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতার সমালোচনা করে আসছে।আলোচনায় এই খাতও গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির বিষয় হয়ে আছে।
শুধু গাড়ি, দুগ্ধ ও অ্যালকোহল নয়, আরও অনেক কানাডীয় পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় পড়তে পারে। ফলে চুক্তি না হলে কানাডার রপ্তানিকারকদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। বুধবারের শুল্ক কার্যকরের সময়সীমার আগে সমঝোতায় পৌঁছানোই অটোয়ার প্রধান লক্ষ্য।
এ জাতীয় আরো খবর..