অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং নেওয়ায় খুশি ছিলেন হাসান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১৮, | ১৪:২৮:০৩ |
ডারউইন টেস্টে টস হারা শাপে বর হয়েছে বাংলাদেশের। সতেজ উইকেটে আগে বোলিং করার সুযোগ পায় টাইগাররা। কন্ডিশনের সুবিধা দারুণ কাজে লাগান তিন পেসার। ১০ উইকেট নিয়ে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে বেঁধে ফেলে অস্ট্রেলিয়াকে। বাংলাদেশের জয়ের ভিত তৈরি হয় ওখানেই। হাসান মাহমুদেরও বিশ্বাস তেমনটাই, ‘টসে জিতে ওরা আগে ব্যাটিং নেওয়ায় আমাদের দিকে ছন্দটা চলে এসেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুশি ছিলাম প্রথমে বোলিং করতে পেরে। কারণ সতেজ উইকেট, নতুন বলে খেলা সহজ ছিল না।’ প্রথম দিনের উইকেটে পেস ও বাউন্স থাকায় দারুণ কার্যকর ছিলেন হাসান। ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান তিনি। তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেনও কার্যকর ছিলেন বল হাতে। পেসারত্রয়ী সুশৃঙ্খল বোলিং করায় উজ্জীবিত ছিল দল। ব্যাটিংয়েও ছিল এর ইতিবাচক প্রভাব।

দেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানদের দৃষ্টিতে টেস্টে দেশের সেরা বোলার হাসান মাহমুদ। তিনি মনে করেন, যে কোনো কন্ডিশনে সুশৃঙ্খল বোলিং করার দক্ষতা আছে ডানহাতি এই পেসারের। কন্ডিশন, প্রতিপক্ষকে বোঝার ক্ষেত্রে বিচক্ষণ একজন বোলার। সাকিবের সেই দাবিকে সঠিক প্রমাণ করেছেন হাসান ডারউইনে ভয়ংকর বোলিং করে। ইনিংসে ছয় আর ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ছয় উইকেট প্রাপ্তি ক্যারিয়ারসেরা বোলিং তাঁর। দ্বিতীয় ইনিংসে শিকার করেন গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট। নতুন বলে জোড়া আঘাত হানেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে। হাসান যেখানে শেষ করেন, সেখান থেকে শুরু করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন তিনি। 

অস্ট্রেলিয়াকে তাদের কন্ডিশনে কুপোকাত করার রহস্য ভেদ করেন হাসান, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল মানিয়ে নেওয়া। সেই কাজটি পরিকল্পিতভাবে সম্ভব করেছে সবাই। খুবই ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছিলাম আমরা। খুবই একাগ্র ছিলেন ফাস্ট বোলাররা। টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগে আমরা ফাস্ট বোলাররা একসঙ্গে বসে আলোচনা করেছিলাম কীভাবে কী করা যায়। ওখান থেকে যে গেম প্ল্যান দেওয়া হয়েছিল, সেটা মেনে বোলিং করেছে সবাই। খুবই সুশৃঙ্খল ছিল বোলিং। এ কারণে প্রথম ইনিংসে দুইশ রানের নিচে অলআউট করা গেছে অস্ট্রেলিয়াকে। একটি সমন্বিত বোলিং শো ছিল প্রথম ইনিংসে।’

মুশফিকুর রহিমদের মতো হাসানও সংগ্রহ করেন ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের একটি স্মারক। ম্যাচসেরা হওয়ার স্মৃতি হয়ে থাকবে সেটি। যদিও ডারউইন টেস্টের সাফল্যে বুঁদ হয়ে থাকতে চান না হাসান। সিরিজনির্ধারণী দ্বিতীয় টেস্টের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ২৬ বছর বয়সী এই পেসারের মতে, ‘এটি মাত্র শুরু, আরও কিছু করতে হবে। এক টেস্টে ম্যাচসেরা হয়ে খুশি থাকা যাবে না। আমি মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় সব ভুলে গেছি। কী করেছি বা হয়েছে, সেগুলো মনে রাখিনি। পরের গেম নিয়ে চিন্তায় করছি।’ 

কুইন্সল্যান্ডের সমুদ্রতীরবর্তী শহর ম্যাকয়ে ২২ থেকে ২৬ আগস্ট হবে দ্বিতীয় টেস্ট। এই ভেন্যু সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই ক্রিকেটারদের। বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়েই টেস্ট অভিষেক হবে গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনা তথা হারাপ পার্কের। অসিদের কাছেও অপরিচিত ভেন্যু এটি। যদিও ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, পেস ও বাউন্সি উইকেটে খেলা হবে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি। 

এ ব্যাপারে হাসানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘ডারউইনের থেকে ম্যাকয়ে পেস ও বাউন্স বেশি হলে আশা করি আমরা লাভবান হব। ওই কন্ডিশনে যত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারব, তত ভালো। প্র্যাকটিস করার পর নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। নতুন করে মাঠে নামার চিন্তা করতে হবে সবাইকে। বোলিং কোচ তালহা ভাই ও অধিনায়কের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব।’ 

ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডারউইনে সফল হন হাসান। ম্যাকয়েও ধারাবাহিকতা রাখতে চান তিনি। ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল আর ফিল্ডিং কোচ আশিক মজুমদার সাফল্যের কৃতিত্ব দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের। আশরাফুলের মতে, ‘জিম্বাবুয়ে থেকে আসার পর বলেছিলাম আমরা প্রস্তুতিটা ভালোভাবে নিতে পারি না। এখানে এসে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া গেছে। খেলোয়াড়রা সবাই খুব পরিশ্রম করেছে। সুন্দর প্রস্তুতি নিয়েছে। আমাদের আট-নয় মাস টেস্টের রেকর্ড দেখেন, আট ম্যাচে পাঁচ জয়। ভালো খেলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল ছেলেরা। আর প্রস্তুতি ম্যাচে খারাপ করা আর্শীবাদ হয়ে গেছে। কারণ হারের পর সবার উপলব্ধি হয়েছে এবং ভালো খেলার তাড়না পেয়েছে।’ ফিল্ডিং কোচ আশিক জানান, ছেলেরা ভালো করার জন্য মুখিয়ে ছিল। এ কারণে ভালো ফল এসেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..