রাঙামাটি সদর উপজেলার জীবতলী হেডম্যান পাড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের চাকুর আঘাতে রিপন চাকমা (১৪) নামের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত যুবক স্বপন চাকমা (২২) নিজেই পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে ।
জানা গেছে, নিহত রিপন চাকমা কাপ্তাই ইউনিয়নের ভাইবোন ছড়া পাড়ার বাসিন্দা লক্ষীচান চাকমার ছেলে। সে সম্পর্কে স্বপন চাকমার মাসতুতো ভাই (মায়ের ছোট বোনের ছেলে)।
অভিযুক্ত স্বপন চাকমা জীবতলী ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা রিময় লাল চাকমার ছেলে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে নিহত রিপন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে। ওই সময় তার খালা ও খালু (স্বপনের বাবা-মা) বিলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে স্বপন চাকমা ধারালো চাকু দিয়ে রিপনের গলা, বুক ও পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।
এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্বপন চাকমা কাপ্তাই নেভি ক্যাম্পের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গিয়ে নিজে মানুষ হত্যা করেছে জানিয়ে আত্মসমর্পণ করে।
জীবতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুদত্ত চাকমা জানান, অভিযুক্ত স্বপন চাকমা রিময় লাল চাকমার দ্বিতীয় সন্তান। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই সে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিল। তার বাবা-মা অনেক ডাক্তার কবিরাজের চিকিৎসা করালেও তাকে সুস্থ করা সম্ভব হয়নি। কিছুদিন পরপর তার মানসিক সমস্যা প্রকট হয়ে উঠলে সে অস্বাভাবিক আচরণ করে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের গলা, বুক ও পেটে চাকুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শওকত আকবর খান জানান, নিহত কিশোরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..