ভাইরাল ভিডিও দেখে চীনে ছুটছে মানুষ, ভাঙল আগের সব রেকর্ড!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১২, | ১৩:৪৪:৩৪ |

সবুজ বনানী, কুয়াশায় ঢাকা চুনাপাথরের পাহাড় আর চোখধাঁধানো শহরের দৃশ্য—এমনই কিছু আকর্ষণীয় রিলস ও ভিডিও দেখে প্রথমবারের মতো চীনে ঘুরতে যান সিঙ্গাপুরের ২৮ বছর বয়সী ক্লেয়ার থাম। শুধু তিনিই নন, তার মতো লাখো বিদেশি পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে চীনের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র। ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকদের আগমন ও খরচ মহামারি-পূর্ব রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

চীনের এই সাফল্যের পেছনে বড় কারণ হলো ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রচারণা এবং সরকারি পর্যটন নীতি। ২০২৩ সাল থেকে চীন ধীরে ধীরে ৫০টি দেশের জন্য ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের সুযোগ চালু করে। গত বছর মোট পর্যটকের ৭০ শতাংশই এসেছে এই সুবিধার আওতায়।

মজার ব্যাপার হলো, পশ্চিমা প্ল্যাটফর্মগুলো চীনে নিষিদ্ধ হলেও পর্যটক টানতে সেগুলোরই ব্যাপক সাহায্য নিয়েছে সরকার। পশ্চিমা বিশ্বের তরুণদের আকৃষ্ট করতে চীনের সরকারি কর্মকর্তারা ইন্টারনেট সেন্সরশিপের ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল’ এড়িয়ে টিকটক বা এক্সের (সাবেক টুইটার) মতো নিষিদ্ধ মাধ্যমগুলোতে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রচার চালাচ্ছেন। এর পাশাপাশি, ‘চায়নাম্যাক্সিং’ (পশ্চিমাদের চীনা অভ্যাস গ্রহণ) ট্রেন্ডও সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ভাইরাল হয়েছে।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, গত বছর প্রায় সাড়ে ৩ কোটি বিদেশি পর্যটক চীনে এসেছেন, যা থাইল্যান্ডের চেয়ে বেশি এবং জাপান ও মালয়েশিয়ার খুব কাছাকাছি। ইরান যুদ্ধের কারণে উড়োজাহাজ চলাচলের রুট পরিবর্তন হওয়ায় চীনের বিমান সংস্থাগুলোও লাভবান হচ্ছে।

পর্যটকদের এই ঢল চীনের খুচরা ব্যবসায় নতুন প্রাণ এনেছে। বিশেষ করে দাঁত পরিষ্কার বা পোশাক বুননের মতো পরিষেবাগুলো পশ্চিমাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তবে নগদ অর্থহীন লেনদেন, ভাষাগত সমস্যা ও পশ্চিমা অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটকদের এখনো কিছু ঝামেলার মুখে পড়তে হচ্ছে। এর পাশাপাশি, দেশটির সর্বত্র থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও কড়া নজরদারি অনেক পর্যটককে অবাক করলেও, চমৎকার খাবার ও আতিথেয়তার কারণে তারা বারবার চীনে ফিরে আসতে চান।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..