✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৪, | ১৯:১০:০০ |প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে কয়েক মাস ধরে রাঙামাটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পর্যটক কমে গেছে। ফলে হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও নৌযান ব্যবসায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। এই অবস্থায় প্রতিদিন আনুমানিক কয়েক কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্যাসহ একের পর এক নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটন শিল্প ব্যবসায়ীরা। নানা জটিলতায় টানা চারমাস পর্যটকরা আসছেন না। হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্টগুলো প্রায় খালি অবস্থায়। শুধু হোটেল নয়, ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোও পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদে পর্যটক না থাকায় কারণে বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ১০০ টুরিস্ট বোটচালক। এছাড়া পর্যটক স্বল্পতায় ভুগছে রাঙামাটির পলওয়েল পার্ক, আরণ্যক রিসোর্ট, রাঙামাটি পার্ক, রাঙামাটি জাদুঘর, রাজবন বিহার, নীলঞ্জনা, রাঙ্গাদীপ, বার্গি লেক, কাপ্তাই আসামবস্তি সড়কের লাভ পয়েন্টসহ শুভলং ঝর্ণাকেন্দ্র।
রাঙামাটি পর্যটন ঘাটের টুরিস্ট বোট ব্যবস্থাপক মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সমিতির অধীনে প্রায় ১০০টি বোট রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ খালি পড়ে থাকে। কারণ টানা বর্ষা, আর বন্যা, পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমণ একেবারে বন্ধ হয়ে আছে। বেকার সময় পার করছেন চালকেরা।’
একই অবস্থার কথা বলছেন পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা। তিনি বলেন, ‘আগে প্রায় প্রতিদিন ৫০ ভাগ বুকিং নিশ্চিত ছিল। এখন তা ২০ ভাগে নেমে এসেছে। পাহাড় ধস, অতিবৃষ্টি আর বন্যার কারণে মানুষ এখন আগের মতো রাঙামাটি আসছেন না। তাই ব্যাবসা একেবারে মন্দভাব চলছে। ঝুলন্ত সেতুতে ছুটির দিনে স্থানীয় মানুষদের আনাগোনা বেশি থাকে। কিন্তু দূর দূরান্তের পর্যটক নেই।’
রাঙামাটি পর্যটনশিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাঙামাটির হোটেল ব্যবসায়ীরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। পর্যটক নেই, আয়ও নেই। কিন্তু কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচের লাগাম টেনে ধরা এখন মুশকিল। সম্প্রতি বন্যাসহ দেশে একের পর এক সমস্যা লেগে আছে। যে কারণে মানুষ আগের মতো ঘুরে বেড়াতে চাচ্ছে না। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে পর্যটন মৌসুমে আবারও পর্যটকমুখর হবে রাঙামাটি এমন আশায় আবারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।