✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৪, | ১৮:৪৮:৩৯ |নওগাঁর বদলগাছীতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান দিপুর (৫০) বিরুদ্ধে। তিনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতের আমির এবং বদলগাছীর কোলা ইউনিয়নের কাজি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে স্কুলটিতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিক্ষুদ্ধ জনতা এবং ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম ছিল। এ সময় ছাত্রীকে একা পেয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কাজী দিপু ধর্ষণচেষ্টা করেন। তবে মেয়েটি ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু হয়। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক গা ঢাকা দেয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ ভান্ডারপুর চারমাথা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। স্কুল ঘেরাও করে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান সনি এবং বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর হতবাক হয়েছি। প্রধান শিক্ষক এবং জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুূর ইসলাম স্বপন এ বিষয়ে বলেন, এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারী-সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছিল। তাছাড়া বাল্যবিবাহসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা শফিউল আলম দিপুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তার যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ভুক্তভোগী পরিবার থানায় এসেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি এ বিষয়ে জানান, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুর সাঈদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনেছি, আমার কাছে মনে হয়েছে এটি ষড়যন্ত্র। আমরা তদন্ত করছি। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা এটা অন্যায়।’