✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৪, | ১১:১৫:৫২ |বিশ্বকাপের ফাইনালে বিতর্কিত আচরণের রেশ কাটতে না কাটতেই ক্লাব ফুটবলেও নতুন বিতর্কে জড়ালেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলতে নেমে মাঠে ফাউলের বাঁশি বাজার পর প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে জোরে বল মেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। রেফারি ফাউলের নির্দেশ দেওয়ার পর বলটি পারেদেসের কাছে চলে আসে। তবে খেলা থামার পরও তিনি বলটি তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের দিকে সজোরে শট করেন। এতে মাঠে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
বিশ্বকাপ ফাইনালের পরও পারেদেসের আচরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। এবার ক্লাব ম্যাচেও এমন কাণ্ড ঘটিয়ে আবারও সমালোচনার মুখে পড়লেন ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষের পরপরই বিতর্কিত সব কাণ্ড ঘটিয়ে খলনায়কে পরিণত হয়েছিলেন পারেদেস, যা শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গে হাতাহাতিতে গড়ায়। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা থেকে শুরু করে গাভিকে কুস্তি খেলার মতো আছাড় মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়ার মতো কাণ্ড ঘটান তিনি।
বিশ্বকাপের ফাইনাল হারের পর আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় কিছুদিন বিশ্রামে থাকলেও, স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারের মাত্র কয়েক দিন পরই বোকা জুনিয়র্সে যোগ দেন পারেদেস। ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যার মধ্যেই দু-দুটি হলুদ কার্ড দেখে ফেলেছেন!
গত রোববার লিওনেল মেসির শৈশবের ক্লাব নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের মাঠে পিছিয়ে থেকেও ২-২ ব্যবধানে ড্র করে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে বোকা জুনিয়র্স। তবে সেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার আগেই, নিউওয়েলসের মিডফিল্ডার ফ্যাকুন্দো গুচের গায়ে সজোরে বল শট করে পুরো পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলেন পারেদেস।
ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে বোকার পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরেই ফ্যাকুন্দো গুচ ফাউলের শিকার হন এবং বলটি গড়িয়ে গিয়ে পড়ে পারদেসের কাছে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজিয়ে ফ্রি-কিকের নির্দেশ দেন। কিন্তু ফাউলের বাঁশি শুনেও পারদেস বলটি কুড়িয়ে না নিয়ে সরাসরি গুচের পিঠ লক্ষ্য করে জোরে শট মেরে বসেন!
নিউওয়েলসের এই মিডফিল্ডার যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার সতীর্থরা সঙ্গে সঙ্গে পারদেসকে ঘিরে ধরেন এবং নিজেদের খেলোয়াড়কে বাঁচাতে একপ্রকার তুলকালাম কান্ড বাঁধিয়ে দেন। পেনাল্টি বক্সের বাইরে তৈরি হয় মারাত্মক হট্টগোল। ঘটনা শেষে রেফারি পারদেসকে হলুদ কার্ড দেখান, ফলে কোনোমতে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বা লাল কার্ডের শাস্তি থেকে বেঁচে যান তিনি।
পারদেসের এই ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ আচরণ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে অলরেডি তদন্ত চালাচ্ছে ফিফা। প্রতিপক্ষের ওপর শারীরিকভাবে চড়াও হওয়ার (অ্যাসাল্ট) অপরাধে পারদেস, তাঁর সতীর্থ নাহুয়েল মলিনা এবং সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।
শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি ম্যাচে নিয়মভঙ্গের অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধেও তদন্তের খবর পাওয়া গেছে। পারদেসদের পাশাপাশি থিয়াগো আলমাদা এবং স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও চলছে এই তদন্ত।
এছাড়া দলগত অসদাচরণ, ‘বর্ণবাদ ও বৈষম্যমূলক আচরণ’ এবং ‘ম্যাচ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থতার’ মতো গুরুতর অভিযোগে এএফএ-র বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে ফিফা।