সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৪, | ১০:২২:১৮ |
সংসদের বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ ছাড়াই সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি আজ মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) প্রথম বৈঠকে বসছে।

সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বেলা ১২টায় অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম বৈঠকে সদস্যদের পরিচিতি, কমিটির কর্মপরিধি, কর্মকৌশল এবং সংবিধান সংশোধনের রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হবে। দ্বিতীয় বৈঠক থেকে সংশোধনী সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়নের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে সংশোধন প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গত ১৩ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠন করা হয়। এর দায়িত্ব হলো সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা। তবে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

সরকারি দল বিরোধী জোটকে কমিটিতে পাঁচজন সদস্য মনোনয়নের আহ্বান জানালেও তারা কোনো নাম দেয়নি। কমিটি গঠনের দিনই বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে এবং জানায়, তারা সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের পক্ষে।

সংশ্লিষ্টদের মতে জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংবিধান সংস্কার প্রশ্নটি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থা, রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের দাবি উঠেছে। বিশেষ কমিটি এসব বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। তবে বিরোধী দলের প্রতিনিধি না থাকলে আলোচনা কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে সংবিধানের মতো মৌলিক বিষয়ে সর্বদলীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সংশোধন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ বিষয়ে জানান, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই বর্তমান বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। তিনি জানান, বিশেষ কমিটি বিচার বিভাগ, আইন বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী, সম্পাদক, বিভিন্ন অংশীজন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করে সুপারিশ তৈরি করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের পর এ পর্যন্ত ১৭ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের জোরালো দাবি ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসনসহ ১১ খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও সংলাপের পর ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গৃহীত হয়।

পরে নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেন, যার ভিত্তিতে গণভোট অধ্যাদেশ জারি হয়। ওই আদেশ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিধান ছিল। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৭ জন সদস্য উভয় শপথ নিলেও সরকারি দল বিএনপি জোটের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..