✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৯, | ১৪:০৩:০৬ |আফ্রিকার কেনিয়ায় তুর্কানা হ্রদের তীরে আবিষ্কৃত ১৪ লাখ বছর আগের কিছু পায়ের ছাপ মানব বিবর্তনের ইতিহাসে নতুন তথ্য যুক্ত করেছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’ (পিএনএএস)-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আধুনিক সমাজের মতো অতি প্রাচীনকালেও পুরুষ ও নারীদের সামাজিক ভূমিকা এবং দলবদ্ধ হয়ে চলাচলের প্রবণতা আলাদা ছিল।
গবেষণার তথ্যমতে, আনুমানিক ১৪ লাখ ৩০ হাজার বছর আগে ‘প্যারানথ্রোপাস বইসেই’ প্রজাতির আটজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নদীর তীরের কাদামাটির ওপর দিয়ে দল বেঁধে হেঁটে গিয়েছিল। বিস্ময়কর বিষয় হলো, সেই যাত্রায় তাদের সঙ্গে কোনো নারী বা শিশুর উপস্থিতি ছিল না।
এ বিষয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিল রোচ জানান, এই বিশেষ সফর ইঙ্গিত দেয়, সেই সময়েও পুরুষেরা আলাদাভাবে দল গঠন করত। বর্তমানের গরিলা বা শিম্পাঞ্জিদের মতো তারা হয়তো নিজেদের এলাকা পাহারা দিতে কিংবা শিকারে যেতে একজোট হতো। এটি মূলত আদিম মানুষের উন্নত সামাজিক চেতনারই এক অনন্য প্রমাণ।
প্রায় ৫০ বছর আগে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী কে বেরেনসমেয়ার কেনিয়ার ওই অঞ্চলে পায়ের ছাপগুলো প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন। সম্প্রতি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে আগ্নেয়গিরির ছাই পরীক্ষা করে এর সঠিক সময়কাল নিশ্চিত করা হয়েছে। এত দিন কেবল খুলি ও দাঁতের জীবাশ্মের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করতেন, প্রজাতিটি উচ্চতায় বেশ খাটো ছিল। তবে আধুনিক দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তিতে পায়ের ছাপ বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানতে পেরেছেন, তাদের গড় উচ্চতা ছিল প্রায় ৬ ফুট এবং ওজন ছিল ৭৫ কেজির কাছাকাছি। এ প্রসঙ্গে গবেষক কেভিন হাটাল জানান, উচ্চতা ও শারীরিক গঠনের দিক থেকে এরা তখনকার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজাতি ‘হোমো ইরেকটাস’-এর সমকক্ষ ছিল।