ট্রফিহীন মৌসুমেও কি ব্যালন ডি’অর জিতবেন এমবাপ্পে? যা বলছে ইতিহাস

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৯, | ১১:২৩:৫৯ |

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হলেও ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্র এখন ব্যালন ডি’অর। বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে অনেকের চোখে অন্যতম দাবিদার রদ্রি। তবে চোটের কারণে ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকায় তার সম্ভাবনা কিছুটা প্রশ্নের মুখে।

অন্যদিকে, বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল ক্লাব পর্যায়ে উজ্জ্বল মৌসুম কাটালেও বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ফলে আলোচনায় উঠে আসছে কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন এবং লিওনেল মেসির নামও।

তবে এমবাপ্পের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন একটাই, ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের হয়ে কোনো বড় শিরোপা না জিতেও কি ব্যালন ডি’অর জেতা সম্ভব?

ইতিহাস বলছে, সম্ভব। নব্বইয়ের দশকের পর অন্তত তিনজন ফুটবলার বড় কোনো দলীয় শিরোপা ছাড়াই ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত এই পুরস্কার জিতেছেন।

জর্জ উইয়াহ (১৯৯৫)
১৯৯৫ সালে লাইবেরিয়ার কিংবদন্তি জর্জ উইয়াহ পিএসজির হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছিলেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে দলকে সেমিফাইনালে তুললেও পিএসজি লিগ বা ইউরোপীয় কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি। পরে এসি মিলানে যোগ দিলেও ব্যালন ডি’অর ঘোষণার সময় তার ঝুলিতে বড় কোনো দলীয় ট্রফি ছিল না। তবুও ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমানকে পেছনে ফেলে ইতিহাসের প্রথম আফ্রিকান ও প্রথম অ-ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে জেতেন ব্যালন ডি’অর।

লুইস ফিগো (২০০০)
২০০০ সালে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত খেলেও কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেননি লুইস ফিগো। ইউরো ২০০০-এ পর্তুগালকে সেমিফাইনালে তুললেও শিরোপা অধরাই ছিল। সেই বছর রেকর্ড ট্রান্সফারে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ব্যালন ডি’অর জিতে নেন তিনি, যদিও তার কোনো দলই বড় ট্রফি জিততে পারেনি।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২০১৩)
২০১৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখ ট্রেবল জিতে ইতিহাস গড়লেও ব্যালন ডি’অর যায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর হাতে। ওই বছর রিয়াল মাদ্রিদ কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি। কিন্তু রোনালদোর অবিশ্বাস্য ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ৬৯ গোল এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার কৃতিত্ব তাকে পুরস্কার এনে দেয়। ট্রেবলজয়ী বায়ার্নের তারকা ফ্র্যাঙ্ক রিবেরিকে পেছনে ফেলেই ব্যালন ডি’অর জেতেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

এমবাপ্পের পক্ষে কী বলছে পরিসংখ্যান?
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দ্বিতীয় মৌসুমে ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। লা লিগায় ২৫ গোল করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জেতেন পিচিচি ট্রফি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫ গোল করে হন সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে রিয়াল মাদ্রিদ মৌসুম শেষ করেছে কোনো বড় শিরোপা ছাড়াই।

বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছিলেন ফরাসি অধিনায়ক। আট ম্যাচে ১০ গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেও উঠে আসেন। তবে সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়ায় বিশ্বকাপ ট্রফিও অধরা থেকে যায়।

ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে দলীয় সাফল্য বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হলেও ইতিহাস দেখিয়েছে, অসাধারণ ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অনেক সময় ট্রফির ঘাটতি পুষিয়ে দিতে পারে। জর্জ উইয়াহ, লুইস ফিগো ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো এমবাপ্পেও কি সেই ব্যতিক্রমী তালিকায় নাম লেখাতে পারবেন, এখন সেটিই ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..