পাঁচ বছর ধরে লক্ষ্যে অবিচল থাকার পুরস্কার পেলেন জিদান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৯, | ১১:১৩:৫৩ |

লক্ষ্যে অবিচল থাকার পুরস্কারই যেন পেলেন জিনেদিন জিদান। রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর পাঁচ বছর ধরে অন্য কোনো ক্লাবের প্রস্তাব গ্রহণ না করে অপেক্ষা করেছেন কেবল ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হওয়ার জন্য। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে ফরাসি কিংবদন্তির। 

ফরাসি জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব পেয়ে জানিয়েছেন, শুরু থেকেই তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল জাতীয় দলের ডাগআউটে বসা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জিদানকে ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। ৫৪ বছর বয়সী এই কোচের সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চার বছরের চুক্তি করেছে সংস্থাটি। এর ফলে কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলেদের নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেই দিদিয়ে দেশোঁ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, এটিই হবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে তার শেষ টুর্নামেন্ট। টানা ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করা বিশ্বকাপজয়ী কোচের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তারই সাবেক সতীর্থ জিদান।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে ২০১৬ সালে প্রথমবার রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান কোচ হন জিদান। মূল দলের দায়িত্বে এটিই ছিল তার প্রথম অভিজ্ঞতা। প্রথম মেয়াদেই টানা তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের ইতিহাস গড়েন তিনি। পরে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নিয়ে আরও একটি লা লিগা শিরোপাসহ দুই মেয়াদে মোট ১১টি ট্রফি জেতান স্প্যানিশ জায়ান্টদের। ২০১৭ সালে জেতেন ফিফা বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারও। ২০২১ সালে রিয়াল ছাড়ার পর আর কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নেননি জিদান। জাতীয় দলের কোচ হওয়ার স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি জানিয়ে জিদান বলেন, আমি কেবলই ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হতে চেয়েছিলাম। সবসময় এই দলকে এর ভবিষ্যৎ কোচের চোখে দেখেছি। ঠিক এই কারণেই কোনো ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণ করিনি। রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর আমি শুধুই ফ্রান্স জাতীয় দলকে কোচিং করাতে চেয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আমি চাইলে তিন বছরের জন্য অন্য কোনো দলের দায়িত্ব নিতে পারতাম। কিন্তু তখনও দেশোঁ ফ্রান্স দলের কোচ ছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার সিদ্ধান্ত জানান। এরপরই বুঝতে পারি, পরবর্তী কোচ আমিই হতে চাই। পরে সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করে চুক্তি চূড়ান্ত করি।

জিদান ও দেশোঁর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের অধিনায়ক ছিলেন দেশোঁ, আর দলের অন্যতম প্রধান তারকা ছিলেন জিদান। সেই বছর ব্যালন ডি’অরও জেতেন তিনি। পরে ২০০৬ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে ফ্রান্সকে ফাইনালে তুললেও ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হতে হয়। ফ্রান্সের জার্সিতে ১০৮ ম্যাচ খেলে ৩১ গোল ও ২৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডার।

জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে জিদান বলেন, খুব শিগগিরই আমার কোচিংয়ের ধরন দেখতে পাবেন। ফুটবলই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। আমি একজন নাম্বার টেন ছিলাম। আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে গোল করা। মাঠে একজন নেতা ছিলাম, এখন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নেতা হয়ে উঠেছি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৮ সালে সতীর্থদের সঙ্গে বিশ্বকাপ জয় ছিল আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত। সেই স্মৃতি আজও আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এখন আমি খুব আবেগপ্রবণ এবং ভীষণ রোমাঞ্চিত। এই দায়িত্ব পেয়ে আমি সত্যিই খুব খুশি।

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে জিদানের অভিষেক হতে পারে আগামী ২ অক্টোবর উয়েফা নেশনস লিগে তুরস্কের মাঠে। এরপর ঘরের মাঠে ইতালির বিপক্ষেও দলের দায়িত্বে থাকবেন তিনি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..