✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৭, | ১৪:২৬:১৭ |নির্বাচনী প্রচারণার সময় মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তবে ইউন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তার আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন। তাদের যুক্তি, রায়টি ঘটনা ও নির্বাচনী আইনের ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে এই রায় বহাল থাকলে রক্ষণশীল ‘পিপল পাওয়ার পার্টি’ বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।
কারণ ২০২২ সালে বর্তমান উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউংয়ের বিরুদ্ধে অল্প ব্যবধানে জয়ের পর সরকার তাদের নির্বাচনী খরচ (প্রায় ৪০ বিলিয়ন ওন বা ২৭ মিলিয়ন ডলার) ফেরত দিয়েছিল, তা তাদের আবার সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, যেসব প্রার্থী মোট ভোটের ১৫ শতাংশের বেশি পান, সরকার তাদের নির্বাচনী খরচের অর্থ ফেরত দেয়। তবে কোনো প্রার্থী যদি নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন, তার শাস্তি হিসেবে ১০ লাখ ওন (৬৮০ ডলার) বা তার চেয়ে বেশি জরিমানা হতে পারে। তাহলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক।
সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউনকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন, তবে সেই দণ্ড তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, প্রচারণার সময় তার দেওয়া মিথ্যা বিবৃতি প্রার্থীদের বিষয়ে ভোটারদের সুষ্ঠু বিচার-বিবেচনাকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে।
প্রধান বিচারক যখন রায় পড়ে শোনাচ্ছিলেন, তখন ইউন চুপচাপ তা শোনেন এবং রায়ের পর কোনো মন্তব্য করেননি। ‘পিপল পাওয়ার পার্টি’-ও তাৎক্ষণিকভাবে এই রায়ের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে ইউন মিথ্যা বলেছিলেন; সেখানে তিনি একজন ভাগ্যগণনাকারীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি পরবর্তীতে ইউন-এর স্ত্রী কিম কেওন-হি এবং ‘ইউনিফিকেশন চার্চ’-এর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে ওই চার্চ কিম কেওন-হিকে ঘুষ দিয়েছিল।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউন মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি অস্বীকার করেছিলেন, ২০১২ সালে সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ঘুষের অভিযোগে তদন্তাধীন সিউলের এক সাবেক কর কর্মকর্তার সঙ্গে একজন প্রতিরক্ষা আইনজীবীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
ইউনের বিরুদ্ধে চলমান সাতটি ফৌজদারি মামলার মধ্যে এটি ছিল অন্যতম; তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির কয়েক মাস পর, ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। ওই সামরিক আইন জারিকে কেন্দ্র করে দেশটিতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল।
ক্ষমতা দখলের ব্যর্থ প্রচেষ্টার জেরে আনা বিদ্রোহের মতো গুরুতর অভিযোগসহ বেশ কিছু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ইউন আপিল করেছেন; ওই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রথম মামলায়, সামরিক আইন জারির আগে মন্ত্রিসভার যথাযথ আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া এবং গ্রেফতারের চেষ্টায় বাধা দেওয়ার দায়ে ইউনকে দেওয়া সাত বছরের কারাদণ্ড চলতি মাসের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছেন।
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে ইউন আকস্মিকভাবে সামরিক আইন জারি করেছিলেন, যা মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। সিউলের জাতীয় পরিষদে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সেনা ও পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আইনপ্রণেতারা সামরিক আইন বাতিলের পক্ষে ভোট দিলে ইউন-এর মন্ত্রিসভা তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।