চুয়াডাঙ্গায় শিশু মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আবুল হোসেন ফটিক নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে ২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আবুল হোসেন জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের বড় মসজিদ পাড়ার বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর শিশু মরিয়মসহ চার শিশু মিলে শাক তুলতে যায় গ্রামের হাড়িভাঙ্গা মাঠে। এ সময় তারা মাঠের পাশে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। সেখান দিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ভ্যানচালক যাচ্ছিলেন। ভ্যানচালক মরিয়মকে শাক তোলার কথা বলে মাঠের মধ্যে ভুট্টা খেতের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ শেষে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় অন্য শিশুরা মরিয়মের কথা জানতে চাইলে, সে বলে শাক তুলছে মাঠে।
ঘটনার পরের দিন নিহতের পিতা বাদী হয়ে জীবননগর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় একটি ইটভাটার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্তের পর ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গা থেকে আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা জীবননগর থানার এস আই সাইফুল ইসলাম আবুল হোসেনকে অভিযুক্ত করে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ মামলায় ৩১ জন সাক্ষীর সকলের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে সোমবার দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তারপর পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান মুকুল জানান, এ রায়ের মাধ্যমে অপরাধীরা এ ধরনের ঘটনা থেকে বিরত থাকবে।
এ জাতীয় আরো খবর..