সপ্তাহে ভাড়া সাড়ে ৫ লাখ ইউরো

কী আছে বিলাসবহুল প্রমোদতরী ‘মাল্টিজ ফ্যালকনে’

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২১, | ১৮:৩২:৪১ |
নীল আকাশের নিচে ইয়টটির তিনটি মাস্তুল দাঁড়িয়ে আছে অনন্য ভঙ্গিমায়। প্রথম দেখায় কোনো ঐতিহাসিক জাহাজ মনে হতে পারে। তবে কাছে গেলে সে ভুল ভেঙে যায়। এটি কোনো পুরনো জাহাজ নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরী। এর নাম ‘মাল্টিজ ফ্যালকন’। ২০০৬ সালে ইয়টটি প্রথম পানিতে ভাসানো হয়। আজও এর আকর্ষণ ও সৌন্দর্য একটুও কমেনি।

মালিকানা ও বিশেষ অধিকার: মাল্টিজ ফ্যালকনের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বিখ্যাত হোটেল গ্রুপ ‘জুমেইরাহ’। প্রতিষ্ঠানটির অতি-ভিআইপি ‘প্রাইভ কালেকশন’-এর অধীনে আনা হয় মাল্টিজ ফ্যালকনকে। জুমেইরাহ গ্রুপ নিজেদের বিশেষ অতিথিদের জন্য এমন সব বিলাসবহুল অভিজ্ঞতার আয়োজন করে। যেমন তানজানিয়ার এক সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত ৪ দশমিক ৮ হেক্টরের থান্ডা দ্বীপও সংস্থাটির তালিকায় আছে। তবে চাইলেই যে কেউ ইয়টটি ভাড়া নিতে পারে না। এটি কেবল আমন্ত্রিত অতি-গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের বুকিংয়ের জন্য উন্মুক্ত। এর ভাড়ার অংকটাও বেশ চড়া। বছরের কম ব্যস্ত সময়ে (লো সিজন) মাল্টিজ ফ্যালকনের সাপ্তাহিক ভাড়া শুরু হয় ৪ লাখ ৯০ হাজার ইউরো থেকে। পর্যটনের মূল সময়ে (পিক সিজন) এ ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ইউরোয়।

আধুনিক প্রযুক্তি ও নকশা: আমেরিকান ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট টম পারকিনসের হাত ধরে এ ইয়টের যাত্রা শুরু। তিনি প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে উন্নত প্রকৌশল ও নকশার এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটাতে চেয়েছিলেন। ইয়টের মূল আকর্ষণ হলো এর বিশেষ মাস্তুল ব্যবস্থা, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘ফ্যালকনরিগ’। ডাইকস্ট্রা নেভাল আর্কিটেক্টস ও ডিজাইনার ড্যামন রবার্টস যৌথভাবে এটি তৈরি করেছেন। ইয়টটিতে ৫৭ মিটার উঁচু তিনটি কার্বন-ফাইবার মাস্তুল রয়েছে, যা নিজে থেকেই ঘুরতে পারে। টম পারকিনস একবার বলেছিলেন, তিনি মাত্র ৫ মিনিটে যেকোনো নাবিককে এ ইয়ট চালানো শিখিয়ে দিতে পারবেন। অনন্য নকশার জন্য ইয়টটি এ পর্যন্ত ১৮টি ডিজাইন পুরস্কার পেয়েছে।

ইয়টের ক্যাপ্টেন পিয়েরফ্রান্সেসকো কাফারো জানান, এখানে কোনো বড় চাকা ঘুরিয়ে ইয়ট চালাতে হয় না। একটি সুপারকারের ড্যাশবোর্ডের মতো ছোট ছোট ডায়াল ও বোতামের সাহায্যে পুরো ইয়টটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তার দাবি, ৮৮ মিটার দীর্ঘ ইয়টটি এতটাই শক্তিশালী যে এটি একাই আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে পারে। ছোট ইয়টগুলোকে সাধারণত বড় জাহাজে করে মহাসাগর পার করতে হয়, কিন্তু মাল্টিজ ফ্যালকন বছরে দুবার নিজে নিজেই এ পথ পাড়ি দেয়।

ভেতরের সাজসজ্জা ও আতিথেয়তা: ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ইয়টটির ভেতর বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ইতালির লুসবেন শিপইয়ার্ডে ছয় মাস ধরে এর সংস্কারকাজ চলে। আগে এর ভেতরের রঙ ছিল কালো ও লাল। নতুন নকশায় সেখানে বালি, ক্যারামেল ও বেইজ রঙের মতো হালকা ও আরামদায়ক রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। পলিশ করা দামি কাঠ, লিনেন ও সিল্কের কাপড় দিয়ে ভেতরের দেয়াল ও আসবাব সাজানো হয়েছে। বাইরের কালো রঙ বদলে করা হয়েছে বিশেষ ‘পেরিনি ব্লু’। ইয়টের ভেতরের কাঠের দেয়াল ও দরজাগুলোও বোতামের চাপে খোলা বা বন্ধ করা যায়।

অতিথি সুবিধা ও বিনোদন: ইয়টে একসঙ্গে ১২ জন অতিথি থাকতে পারে। কক্ষগুলো বেশ বড় ও সব সুবিধাযুক্ত। প্রধান সুইটের সঙ্গে একটি নিজস্ব ডেক রয়েছে। সেখানে থাকা বিছানাটি সমুদ্রের তীরের দৃশ্য দেখার জন্য প্রয়োজনমতো ঘোরানো যায়। ইয়টের সামনে ও পেছনে অতিথিদের আরাম করার জন্য হ্যামক বা ঝুলন্ত বিছানা রয়েছে। অতিথিরা চাইলে ডেকে বসে কিংবা ডাইনিং রুমে রাতের খাবার খেতে পারে। রান্নার জন্য জুমেইরাহ হোটেলের বিশেষ শেফ কিংবা ইয়টের নিজস্ব দক্ষ শেফকে বেছে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ইয়টে মোট ১৯ জন কর্মী রয়েছেন, যারা নেভিগেশন থেকে শুরু করে অতিথিদের সেবা করার কাজগুলো করেন।

ভ্রমণের রুট: ঋতুর ওপর ভিত্তি করে এ ইয়টের ভ্রমণের জায়গা ঠিক হয়। শীতকালে এটি কাটায় ক্যারিবিয়ান সাগরে, বিশেষ করে অ্যান্টিগুয়া, সেন্ট বার্টস ও বাহামাসের আশপাশে। আর গ্রীষ্মকালে চলে যায় ভূমধ্যসাগরে। তখন এটি ইতালির উপকূল, ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা ও স্পেনের ব্যালেরিক দ্বীপে ঘুরে বেড়ায়। এছাড়া ইয়টটি ক্রোয়েশিয়া, মন্টেনিগ্রো, গ্রিস ও তুরস্কেও যায়। ভ্রমণের অংশ হিসেবে অতিথিরা চাইলে স্পেনের জুমেইরাহ মায়োর্কা কিংবা ইতালির জুমেইরাহ ক্যাপ্রি প্যালেসের মতো বিলাসবহুল হোটেলেও সময় কাটাতে পারেন। —খবর ও ছবি দ্য ন্যাশনাল

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..