বিশ্বজুড়ে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিথিয়ামের ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে।
তবে চীনের অন্যতম বড় লিথিয়াম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান তিয়ানকি লিথিয়াম বলছে, ভবিষ্যতে শুধু বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নয়, ব্যাটারিচালিত জাহাজ, ট্রাক ও খনি শিল্পের যন্ত্রপাতির কারণেও লিথিয়ামের চাহিদা আরো দ্রুত বাড়বে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ফ্রাঙ্ক হা সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
তিনি জানান, বর্তমানে যেসব পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে, তার অধিকাংশেই নতুন ধরনের ব্যাটারিনির্ভর শিল্পের সম্ভাব্য চাহিদা পুরোপুরি ধরা হচ্ছে না।
চীনের চেংদু শহরে নিজ কার্যালয়ে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত ট্রাক, খনির যন্ত্রপাতি ও জাহাজের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এতে লিথিয়ামের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিভিত্তিক প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের প্রভাব অনেক বড়। সে অবস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তিয়ানকি লিথিয়ামের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক লিথিয়াম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যানফেং লিথিয়ামের মতো বড় কোম্পানি। অন্যদিকে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যাটারি সেল উৎপাদন হয় চীনে। বাজারটির বড় অবস্থানে আছে সিএটিএল ও বিওয়াইডি।
ফ্র্যাঙ্ক হা বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশ এমন সময়ে খনিজ খাতের জন্য নিজেদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে, যখন বিদ্যুচ্চালিত পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য লিথিয়ামের গুরুত্ব বাড়ছে।’
তিনি জানান, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই লিথিয়ামের চাহিদা বাড়ছিল। তবে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি নিজেও পেট্রলচালিত মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ির বদলে বিদ্যুচ্চালিত বিওয়াইডি গাড়ি কেনার কথা ভাবছেন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি দশকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ হারে লিথিয়ামের চাহিদা বেড়েছে, যা আগের দশকে ছিল মাত্র ১০ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জি, প্রজেক্ট ব্লু, ফাস্টমার্কেটস ও মাইস্টিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত বছর লিথিয়ামের চাহিদা প্রায় ১১ লাখ টন থাকলেও আগামী এক দশকে তা বছরে ৩৬-৬৩ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।
ফ্র্যাঙ্ক হা মনে করেন, পূর্বাভাসে শুধু বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বাজারকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংরক্ষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টার, মানবসদৃশ রোবট ও ড্রোন প্রযুক্তির বাড়তি চাহিদা এখানে পুরোপুরি হিসাব করা হয়নি।
লিথিয়াম সাধারণত দুভাবে উৎপাদন করা হয়। একটি হলো খনি থেকে শক্ত পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে। অন্যটি লবণাক্ত পানির ভেতর থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করা।
শেনজেন ও হংকং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিয়ানকি লিথিয়ামের অস্ট্রেলিয়া ও চিলির খনিতে বিনিয়োগ রয়েছে এবং চীনের বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদন কারখানাও আছে।
প্রতিষ্ঠানটি অস্ট্রেলিয়ার খনি প্রতিষ্ঠান আইজিওর সঙ্গে যৌথভাবে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কুইনানায় একটি লিথিয়াম হাইড্রক্সাইড কারখানা পরিচালনা করছে। এছাড়া বিশ্বের অন্যতম বড় হার্ড-রক লিথিয়াম খনি গ্রিনবুশেসের সঙ্গে অংশীদারত্ব রয়েছে কোম্পানিটি।
এ জাতীয় আরো খবর..