কমান্ডার ইন চিফ: বিশ্ব মাতাচ্ছে বাংলাদেশি ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২১, | ১৮:১৫:৩০ |

ফেসবুক আর টিকটকের স্ক্রল জুড়েই এখন তার রাজত্ব। ধবধবে সাদা চামড়া আর মাথার ওপর সোনালি চুলের বাহারি ছাঁট দেখে যে কারোরই মনে পড়ে যেতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা। তবে এই ট্রাম্প কোনো মানুষ নন বরং ৭০০ কেজি ওজনের এক বিরল অ্যালবিনো মহিষ। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা এই মহিষটি এখন পুরো বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক মহাতারকায় পরিণত হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে বড় হওয়া চার বছর বয়সী এই মহিষটিকে দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন শত শত মানুষ। কেবল একনজর দেখার জন্য কিংবা একটা সেলফি তোলার জন্য খামারের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া এই 'ডোনাল্ড ট্রাম্প'কে ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকা সংলগ্ন এই জেলাটিতে।

মহিষটির মালিক ৩৮ বছর বয়সী জিয়া উদ্দিন মৃধা জানান, তার ছোট ভাই মূলত এই অদ্ভুত নামটির পেছনে অবদান রেখেছেন। মহিষটির মাথার সামনের দিকে থাকা সোনালি রঙের একঝাঁক চুল হুবহু সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের চুলের স্টাইলের কথা মনে করিয়ে দেয়। আর সেই কারণেই পুরো খামারের শত শত পশুর ভিড়ে এই বিশেষ মহিষটির নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

তবে চেহারার মিল আর রাজকীয় নামের বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই মহিষের আর কোনো চারিত্রিক মিল নেই বলে হাসিমুখে নিশ্চিত করেছেন খামারি। তিনি জানান, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এই মহিষটির একমাত্র বিলাসিতা হলো দিনে অন্তত চারবার ঠান্ডা পানিতে গোসল করা। গোসলের সময় পরম যত্নে গোলাপি রঙের চিরুনি দিয়ে তার মাথার সোনালি চুলগুলো আঁচড়ে দিতে হয়, যা দুই পাশের বাঁকানো শিংয়ের মাঝে চমৎকার লুক তৈরি করে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের অ্যালবিনো বা শ্বেতী মহিষ প্রকৃতিতে অত্যন্ত বিরল। শরীরে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের ঘাটতির কারণে এদের চামড়া এবং পশম সাদা বা হালকা গোলাপি রঙের হয়ে থাকে। বিরল এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই সাধারণ মহিষের চেয়ে এটি দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে, কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় সারা দেশেই পশু বিক্রির ধুম পড়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে প্রতিবছর ঈদের সময় কোটি কোটি গবাদিপশু কোরবানি দেওয়া হয়, যা দেশের দরিদ্র মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখে। তবে আর সব সাধারণ পশুর চেয়ে এই সেলিব্রেটি মহিষটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উন্মাদনা একেবারেই অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে।

খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা কিছুটা চিন্তিত কণ্ঠে জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের ভিড় এবং ক্যামেরার ফ্ল্যাশের কারণে মহিষটি কিছুটা মানসিক চাপে রয়েছে। অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণে গত কয়েকদিনে তার ওজন কিছুটা কমে গেছে। এই কারণে বর্তমানে খামার কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের অবাধ প্রবেশের ওপর কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে।

কড়াকড়ি সত্ত্বেও খামারের বাইরে মানুষের আগ্রহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। দূর-দূরান্ত থেকে ট্রাভেল বোট কিংবা গাড়ি ভাড়া করে মানুষ আসছেন ট্রাম্পের সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হতে। খামারে আসা ব্যবসায়ী ফয়সাল আহমেদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখার পর নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। তাই বন্ধুদের নিয়ে সরাসরি দেখতে এসেছেন এবং মহিষটির চুলের স্টাইল আসলেই তাকে চমকে দিয়েছে।

খামারিরা জানান, এই খামারে শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পই নয়, আরও বেশ কিছু নজরকাড়া নামের পশু রয়েছে। যেমন ট্রাম্পের পাশেই রয়েছে ডানপিটে এক অশান্ত মহিষ যার নাম দেওয়া হয়েছে 'তুফান'। আবার শান্ত স্বভাবের একটি গরুর নাম রাখা হয়েছে সুইট বয় এবং বেশ মোটাসোটা আকারের আরেকটির নাম দেওয়া হয়েছে ফ্যাট বয়। এমনকি ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারের মতো চুল কাটার স্টাইলের কারণে আরেকটি বলদের নাম রাখা হয়েছে নেইমার।

এএফপির প্রতিবেদন

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..