✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২১, | ১৮:০৫:৩২ |সম্প্রতি ইরানের ওপর চালানো অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পদ্ধতিগত লঙ্ঘন এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মার্কিন হুমকির বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে (ইউএনএসসি) নীরবতা ভাঙার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এবং স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদের একটি উন্মুক্ত অধিবেশনে দেওয়া বিবৃতিতে এই দাবি জানান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর অযাচিত সামরিক হামলার সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদ তাদের দায়িত্ব পালন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে ইরানি দূত আগ্রাসী দুই দেশের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক নাগরিক এবং অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিশেষ করে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান হামলা চালিয়ে ১৬৮ জনেরও বেশি নিষ্পাপ শিক্ষার্থী এবং স্কুল কর্মচারীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ইরাভানি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ইরানকে বোমা মেরে ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি, দেশের জ্বালানি, অর্থনৈতিক ও শিল্প অবকাঠামো ধ্বংসের হুঁশিয়ারি এবং পরমাণু বিজ্ঞানী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হত্যার মতো যে দৈনন্দিন হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপত্তা পরিষদের একটি স্থায়ী সদস্য দেশের পক্ষ থেকে শক্তির এমন প্রদর্শন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং যারা এই আগ্রাসনে সহায়তা ও সুবিধা দিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে সংঘটিত এই জঘন্য অপরাধের জন্য পূর্ণ আইনি ও আন্তর্জাতিক দায় বহন করতে হবে। কোনো রাষ্ট্রই রাজনৈতিক সুরক্ষার আড়ালে লুকিয়ে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন কিংবা বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে পার পেয়ে যেতে পারে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সার্বভৌম সমতা, শক্তির অপব্যবহার না করা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার মতো জাতিসংঘের মৌলিক নীতিগুলোতে পুনরায় ফিরে আসার তাগিদ দেন তিনি। একইসঙ্গে যুদ্ধে ইরানের নেওয়া সমস্ত পদক্ষেপকে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার বলে উল্লেখ করেন ইরাভানি।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমান্ডারদের ওপর বিমান হামলার মাধ্যমে এই মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হয়েছিল। এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ১০০টি সফল প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। পরবর্তীতে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও ইরানের ওপর অমানবিক ‘নৌ অবরোধ’ আরোপ করে। মার্কিন প্রশাসনের অতিরিক্ত দাবি এবং ইরানি জাহাজে জলদস্যুতার মতো আচরণের কারণে তেহরান বর্তমানে দ্বিতীয় দফার আলোচনা থেকে বিরত রয়েছে।
সূত্র: প্রেস টিভি