গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত সাত, আহত অর্ধশতাধিক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৬, | ১০:৫৫:৫৩ |

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফের ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুক্রবার গাজা শহরের রিমাল এলাকায় চালানো দুটি পৃথক হামলায় এক শিশুসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন।

স্থানীয় চিকিৎসাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ একটি বহুতল আবাসিক ভবনে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। মুহূর্তেই ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন বাসিন্দারা।

প্রথম হামলার কিছুক্ষণ পর নিকটবর্তী একটি সড়কে চলমান একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, হামলার শিকার ভবনটিতে শত শত মানুষ বসবাস করছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা আগুন ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে মরদেহ ও আহতদের বের করে আনতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হামাসের বর্তমান সামরিক প্রধান ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, হামাসের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নেতৃত্বকে টার্গেট করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তবে হামাসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদের নিহত বা আহত হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে চলমান সংঘাতের কারণে গাজার ২০ লাখের বেশি মানুষ চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। অর্ধেকের বেশি এলাকা এখন ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকটে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর হামাসের সামরিক শাখার নেতৃত্বে আসেন হাদ্দাদ। ইসরায়েলের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনি।

সূত্র : রয়টার্স

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..