পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর থেকেই টলিউড আর্টিস্ট ফোরামের অন্দরে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। নতুন সরকারের শপথের দিনেই সংগঠনের সহ-কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অভিনেতা দিগন্ত বাগচী। সেই সঙ্গে অভিনেতা জীতু কমলের মতো সদস্যদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসায় রীতিমতো উত্তপ্ত টলিউড।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার সংগঠনের পক্ষ থেকে কলম ধরলেন কার্যকরী সভাপতি ও টলিউড সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বিক্ষুব্ধ শিল্পীদের উদ্দেশে তার বার্তা, ‘সময় লাগবে, তবে সকলের কথা শোনা হবে।’ ফোরামের অন্দরের বিবাদ প্রকাশ্যে আসায় কিছুটা বিরক্ত প্রসেনজিৎ।
তিনি শিল্পীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের জন্যই এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। আমাদের আন্তরিক অনুরোধ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু জানানোর আগে সরাসরি কমিটিকে অভিযোগ জানান। আপনারা যদি কমিটিতে না জানিয়ে ফেসবুক বা অন্য মাধ্যমে সরব হন, তবে আমাদের আর কী করার থাকে? আমরা তো পাল্টা সমাজমাধ্যম ব্যবহার করে উত্তর দিতে পারি না।’
দীর্ঘ ২৭ বছরের এই সংগঠনের অবদান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রসেনজিতের কণ্ঠে শোনা গেছে প্রচ্ছন্ন অনুযোগ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘২৭ বছরের একটি সংগঠন শিল্পীদের জন্য কিচ্ছু করেনি, এটা কি হতে পারে? আমরা শিল্পীদের জন্য পারিশ্রমিকের নতুন কাঠামো তৈরি করেছি, কাজের সময় নির্দিষ্ট করেছি। অথচ আজ সবাই এসব ভুলে গিয়েছেন।’
সংগঠনটির অন্দরে গুঞ্জন উঠেছে যে, দিগন্ত বাগচী এবং ভরত কল রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সহকর্মীদের হুমকি দিতেন। এমনকি গত ৭ মে-র পর ফোরাম ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও নাকি শোনা গিয়েছিল। তবে এই অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুই অভিনেতা। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সহ-সভাপতি চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীও।
এ জাতীয় আরো খবর..