✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

সাগরকন্যার নতুন আকর্ষণ ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-০৬, | ২০:২৫:০৪ |

দক্ষিণের সমুদ্র সৈকত খ্যাত পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটা এখন শুধু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; নতুন নতুন প্রাকৃতিক আকর্ষণ যুক্ত হয়ে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এরই মধ্যে পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত এক নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক স্পট এবং কাছাকাছি অবস্থিত ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ এলাকা সবুজ বনভূমি, বিস্তীর্ণ তৃণভূমি, লেক এবং সাগরের ঢেউয়ের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। ছোট ছোট টিলা, নীল আকাশ ও নির্মল বাতাসে জায়গাটি এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক নীরব স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

এখানে পর্যটকরা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, ছবি তোলা, পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি এবং নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন। কোনো প্রকার ঝুঁকি না থাকায় অনেকেই তাঁবু টাঙিয়ে রাতও যাপন করছেন। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার বিরল অভিজ্ঞতা মিলছে বলে জানান দর্শনার্থীরা।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক দম্পতি নীশা ও ফরহাদ বলেন, একই জায়গা থেকে সূর্য ওঠা ও ডোবা দেখা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা। পরিবেশ খুবই শান্ত ও মনোরম।

রাজশাহী থেকে আগত আরেক পর্যটক ব্যাংকার রবিউল ইসলাম বলেন, এখানে এসে মনে হচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছি। নীরবতা আর নির্মল বাতাস আলাদা প্রশান্তি দেয়।

স্থানীয় ট্যুর গাইড আবুল কালাম জানান, প্রথমে স্থানীয়ভাবে জায়গাটির নাম ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পায়। পরে ভ্রমণ ব্লগারদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এটি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করে।

একই সঙ্গে কুয়াকাটার আরেক আকর্ষণ ‘লাল কাঁকড়ার দ্বীপ’ পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ছে। সৈকতের বালুচরে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ পর্যটকদের জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।

স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দুই স্পটকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে কুয়াকাটা পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কুয়াকাটাবাসীর’ সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনায় এই এলাকা ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্বপূর্ণ হাব হতে পারে।

পর্যটন ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু পর্যটকের অসচেতন আচরণে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য, সাউন্ড বক্সের শব্দ ও ময়লা-আবর্জনা প্রাকৃতিক পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলছে।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানান, পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ ও আশপাশের এলাকা নিয়ে টেকসই পর্যটন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..