রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কতটা নিরাপদ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২৮, | ২০:৩৩:৫৯ |
পারমাণবিক শক্তি মানেই ভয়ানক অস্ত্র, ধ্বংস এবং বিস্ময়কর ও ভীতিকর এক শক্তি মনে করে থাকেন অনেকে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের আধুনিকায়নে এবং প্রযুক্তির বিকাশে সর্বক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে কার্যকর পারমাণবিক শক্তি। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গোটা বিশ্বে এটি খুবই কার্যকরী একটি উৎস। তবে, এর সংবেদশীলতাও রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তৈরি পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণে পেরোতে হয় নিরাপত্তামূলক নানা ধাপ।

মঙ্গলবার পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল বা জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দেশ। এমন মাইলফলক অর্জন হলেও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আসলে কতটা নিরাপদ জনজীবনের জন্য তা এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, রূপপুরে ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতেও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র নিরাপত্তা মান কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়।

ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে রিঅ্যাক্টর বা চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন করা হয় এবং ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, বরং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই এখন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ। 

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণযজ্ঞ শেষে এখন শুরু হচ্ছে এর কার্যকারিতার মূল ধাপ। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. প্রীতম কুমার দাস জানান, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মান মেনে চলা ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়, বরং তা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। 

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রটোকলগুলো এতটাই নিচ্ছিদ্র যে, সামান্যতম বিচ্যুতি ঘটলে পুরো প্রকল্প সেখানেই থমকে যেতে পারে। এতে বিশাল ব্যয়ের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করার প্রক্রিয়াই আটকে যাবে। রূপপুরের এই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ মূলত নির্ভর করছে ‘জিরো এরর বা শূন্য ত্রুটি’ নীতির ওপর।
 
এই অধ্যাপক বলেন, রাশিয়ার ‘ফাস্ট নিউট্রন’ প্রযুক্তির উদাহরণ দিয়ে রূপপুরের ব্যবহৃত জ্বালানি বা বর্জ্যকেও পুনরায় ব্যবহারের সম্ভাবনা। ব্যবহৃত ইউরেনিয়ামের উপজাত বা ওয়েস্ট থেকে ভবিষ্যতে আবারও জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে, যা ভারত ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো সফলভাবে পরীক্ষা করছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..