ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করার পর তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তারা আলোচনায় অংশ না–ও নিতে পারে।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বুধবার শেষ হওয়ার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা খুবই কম।
আর ইরান অভিযোগ করেছে, অবরোধ আরোপ করে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ট্রাম্প আসলে আলোচনাকে ‘আত্মসমর্পণের টেবিলে’ পরিণত করতে চাইছেন, কিংবা নতুন করে যুদ্ধের অজুহাত তৈরি করছেন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘হুমকির ছায়ায় হওয়া কোনো আলোচনা আমরা মেনে নেব না। গত দুই সপ্তাহে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছি।’
হরমুজ সংকট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুপক্ষই যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার আশা প্রকাশ করলেও, বাস্তবে তারা হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন শান্তি আলোচনার কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলেছে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইসলামাবাদে আলোচনা মঙ্গলবার হতে পারে, তবে সেই তারিখ পিছিয়েও যেতে পারে।
ওয়াশিংটন আবারও একটি উচ্চপর্যায়ের দল পাঠাচ্ছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই দলে আরও থাকছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
তবে আলোচনা ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি যদি কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়ে যায়, তাহলে ‘অনেক বোমা পড়া’ শুরু হবে।
পিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যুদ্ধবিরতি শেষ হলে কী ঘটতে পারে। জবাবে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, তাহলে অনেক বোমা পড়া শুরু হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের সেখানে থাকার কথা ছিল। আমরা থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছিলাম। যদিও তারা বলছে আমরা একমত হইনি। কিন্তু না, সেটা (স্থান) নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। এখন দেখা যাক, তারা সেখানে উপস্থিত হয় কি না হয়। তারা যদি উপস্থিত না থাকে, তাহলে সেটাও ঠিক আছে।’
মতবিরোধের জায়গাগুলো
এক ইরানি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের ধরন এবং চলমান মার্কিন অবরোধ—এ দুই বিষয়ই আলোচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
ওই কর্মকর্তার দাবি, চুক্তির মূল কাঠামোর একটা বড় অংশ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেছে। কিন্তু ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান পুরো কূটনৈতিক অগ্রগতিকে ভেস্তে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরাও ওয়াশিংটনকে একই ধরনের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁরা মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছেন, প্রকাশ্যে কঠোর বা উসকানিমূলক বক্তব্য আলোচনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্য লাভজনক হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ দিতে তাঁরা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছেন। পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে এ কথা বলেছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..