বিশ্ব অর্থনীতিতে ৮০ বিলিয়ন ডলারের প্রভাব ফেলবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২১, | ২১:৪৩:৩৭ |
থিবীবাসীর এক আবেগের নাম ফিফা বিশ্বকাপ। যাকে ডাকা হয় 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' নামে। এর রোমাঞ্চ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের প্রতিটি ক্রীড়াপ্রেমীর মনে। বিশ্বকাপ শুধু রোমাঞ্চই দেয় না, বিশাল প্রভাব রাখে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। এবারের বিশ্বকাপ বিশ্ব অর্থনীতিতে ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি প্রভাব রাখবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে তুরস্কের গণমাধ্যম আনাদলু এজেন্সি।

আগামী ১১ জুন মেক্সিকোর স্তাদিও অ্যাজটেকাতে উদ্বোধনী ম্যাচের মাধ্যমে শুরু হবে এবারের বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবারের আসর। এই আসরেই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

ফিফা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা জানিয়েছে– ৬.৫ মিলিয়ন দর্শনার্থী এই আসরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যারা প্রায় ১৩.৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে পারে। একই সঙ্গে, টুর্নামেন্টটি থেকে ৮০.১ বিলিয়ন ডলারের মোট উৎপাদন হবে এবং বৈশ্বিক জিডিপিতে ৪০.৯ বিলিয়ন ডলারের অবদান রাখবে। এছাড়া, এই আসর থেকে প্রায় ৮ লাখ ২৪ হাজার পূর্ণকালীন চাকরি সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্ট ভ্যাঙ্কুভার, টরন্টো, মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা, মন্টেরে, আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, কানসাস সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মায়ামি, নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি, ফিলাডেলফিয়া, সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে।



যুক্তরাষ্ট্রে ১১টি স্বাগতিক শহর থাকায় সেখানেই অর্থনৈতিক প্রভাব সবচেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই আসর থেকে প্রায় ১.২৪ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী আসবে এবং প্রায় ১৭.২ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক অবদান রাখবে। পাশাপাশি, ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের কর রাজস্বও তৈরি হতে পারে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১.২৪ মিলিয়ন বিদেশি দর্শনার্থীকে স্বাগত জানাবে, যাদের ৬০ শতাংশই বিশেষভাবে এই ইভেন্টের জন্য ভ্রমণ করবে। লস অ্যাঞ্জেলেসে আটটি ম্যাচ আয়োজন থেকে প্রায় ৫৯৪ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি হতে পারে, যা ২০২২ সালের সুপার বোলের চেয়েও বেশি।

তবে টিকিট ও আবাসনের উচ্চ খরচের কারণে দর্শকদের জন্য এটি ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। গড়ে একজন আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীর দৈনিক ব্যয় ধরা হচ্ছে ৪১৬ ডলার। দর্শকরা গড়ে ১২ দিন অবস্থান করবেন এবং প্রতি ব্যক্তি অন্তত দুটি ম্যাচ দেখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। হোটেল ভাড়া ও স্বল্পমেয়াদি বাসস্থানের সংকটও দেখা দিতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরে গড় রাতপ্রতি হোটেল ভাড়া ২২৭ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৪৮০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এছাড়া ফিফার ডায়নামিক প্রাইসিং মডেলের কারণে চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম আরও বাড়তে পারে। এবারের গ্রুপ পর্বের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম প্রায় ৭০০ ডলার থেকে শুরু, আর ফাইনালের কিছু টিকিট ১০ হাজার ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..