একই গাছে নিজের ওড়নায় তরুণীর ফাঁস, পাশে রশিতে ঝুলছিল প্রেমিক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৮, | ১৯:১৭:৩৯ |
রাঙামাটির বরকলে পারিবারিকভাবে ভালোবাসার স্বীকৃতি না পেয়ে এবং বিয়ের প্রস্তাব মেনে না নেওয়ায় একই গাছে রশিতে ঝুলে একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন প্রেমিক ও প্রেমিকা। ওই গাছে নিজের ওড়না দিয়ে ফাঁস দেন তরুণী। তার পাশেই রশিতে ঝুলছিল প্রেমিকের লাশ।

সোমবার রাতে বরকল উপজেলার ৪নং ভূষণছড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বগাছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার তাদের লাশ উদ্ধারের পর বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

মৃতরা হলেন- রাঙামাটি সদর উপজেলার কেরেটকাটা গ্রামের সুরেশ চাকমার ছেলে সুবাস কান্তি চাকমা (২৭) এবং বরকলের বগাছড়ি এলাকার শান্তি রঞ্জন চাকমার মেয়ে ইনা চাকমা (২৬)।

বরকল থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সুবাস কান্তি ও ইনার মধ্যে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রোববার (৫ এপ্রিল) সুবাস কান্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ইনার বাড়িতে যান। এতে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের কথা হয়। পরে সুবাস কান্তির আগের বিয়ে করা স্ত্রী থাকার বিষয় জানতে পেরে তা মেনে নেয়নি ইনার পরিবার। তবে সুবাস কান্তির দাবি ছিল আগে বিয়ে হলেও তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সমাজ ও ইনার পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করায় শেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ওই প্রেমিক যুগল।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার মধ্যরাতে ইনার বাড়ির পাশে একটি গাছে একই সঙ্গে দুজনের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। মেয়েটির গলায় নিজের ওড়না এবং ছেলেটির গলায় রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ দুটি দেখতে পান স্থানীয়রা।

পরে খবর দেওয়া হলে মঙ্গলবার লাশ দুটি উদ্ধার করে রাতে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে বরকল থানা পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার উভয় পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

বগাছড়ি এলাকার গ্রামপ্রধান (কারবারি) প্রমিশ চাকমা বলেন, মৃত তরুণ-তরুণীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রোববার সুভাষ কান্তি চাকমা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ইনা চাকমার বাড়িতে গিয়েছিলেন। এতে তাদের বিয়ে নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে ইনার পরিবার জানতে পারে সুভাষ কান্তির আগে বিয়ে হয়েছে। তার ঘরে স্ত্রী রয়েছে। তবে সুভাষ কান্তি জানান, তার আগে বিয়ে হলেও প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে; কিন্তু গ্রামবাসী ও ইনার পরিবার তা মেনে নেয়নি। তারা এ বিয়ে কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন। এতে সম্বন্ধ ভেস্তে যাওয়ায় অভিমান থেকে দুজনই আত্মহননের পথ বেছে নেন।

বরকল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পাহাড়ি যুবক-যুবতীর লাশ উদ্ধার করেছে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এদিন রাতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি রাঙামাটি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার সকালে উভয় পরিবারের আত্মীয়স্বজনদের কাছে লাশ দুটি বুঝিয়ে দিয়েছি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..