লালমনিরহাটে তেল নিতে এসে পাম্পের লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা শহরের একটি তেল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে লালমনিরহাটে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। পাম্পের মেশিনগুলো দড়ি, ড্রাম ও কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই এভাবে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, মাইক্রোবাস, ট্রাকচালকসহ সরকারি-বেসরকারি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। সকাল থেকে পাটগ্রাম উপজেলা ওই তেল পাম্প প্রাঙ্গণে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের অপেক্ষা করতে থাকে। এসময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা শহরের হাঁড়িভাঙ্গা, পুলিশ লাইন, কুলাঘাট এবং পার্শ্ববর্তী আদিতমারী, সাপটিবাড়ি, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প ঈদের দিন থেকেই আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। যে কয়েকটি খোলা ছিল, সোমবার সকাল থেকে বিনা ঘোষণায় সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে শহরের একটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি নিতে এসে তেল না পেয়ে পুলিশের ব্যবহৃত একটি গাড়ি পাম্পেই পড়ে আছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার অজুহাত দেখিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন পাম্প মালিকরা। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার কথা বলা হলেও, মাঠ পর্যায়ে এর কোনো প্রতিফলন নেই। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ চালকরা প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে দুষছেন।
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক মাহাফুজার রহমান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনো পাম্পেই তেল পাচ্ছি না। পূর্বঘোষণা ছাড়াই পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ পাম্প ঈদের দিন থেকেই বন্ধ। এভাবে চললে আমাদের বাইকগুলো চলবে কীভাবে?’
মহেন্দ্রনগর থেকে কুলাঘাটে তেল নিতে আসা আরেক চালক আসাদ বলেন, ‘পাম্পে ডিজেল পাওয়া গেলেও পেট্রোল মিলছে না। পাম্প মালিকরা সিন্ডিকেট করে যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন এবং আমাদের তেল দিচ্ছেন না। তেল ছাড়া দেশ ও আমাদের কর্ম চলবে কীভাবে? আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।’
তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাম্প মালিকরা। তেলের সরবরাহ না থাকাকেই দুষছেন তারা।
শহরের একটি পেট্রোল পাম্পের মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে কর্তৃপক্ষ আমাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করেনি। যেখানে আমার তিন লরি তেলের প্রয়োজন, সেখানে রেশন সিস্টেমে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে আমাকে দেওয়া পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল ও পেট্রোল ঈদের আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন গ্রাহকরা এসে ফিরে যাচ্ছেন। আমার যেখানে চাহিদা নয় হাজার লিটারের, সেখানে দেওয়া হচ্ছে মাত্র দুই হাজার লিটার। এমনকি পুলিশের একটি গাড়িও তেল না পেয়ে ফিরে গেছে। আমরাও এর দ্রুত সমাধান চাই।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, ‘সোমবার সকাল থেকে পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ রাখার বিষয়টি আমরা জেনেছি। মাঠ পর্যায়ে আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা (ইউএনও) তদারকি করছেন। তারা পাম্পগুলোর হাউজে গিয়ে সত্যিই কোনো তেল পাচ্ছেন না। মূলত তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে আশা করছি, আগামী দু’একদিনের মধ্যেই কিছু কিছু করে তেলের সরবরাহ আসবে এবং এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..