প্রায় দেড় মাসের খরা কাটিয়ে অবশেষে ঈদের টানা ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজার আগমন করবেন বলে আশা করছেন পর্যটক সংশ্লিষ্টরা। পবিত্র রমজানে হোটেল-মোটেলগুলোতে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিলেও তেমন সাড়া মিলেনি পর্যটকদের।
ঈদের টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটি সামনে রেখে সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামার অপেক্ষা করছেন ব্যবসায়ীরা। সবার প্রত্যাশা টানা ছুটিতে কক্সবাজারে সমাগম হবে লাখো পর্যটকের। তাই সবখানে যেন ব্যস্ততার শেষ নেই। শেষ মুহূর্তে সৈকতজুড়ে এখন যেন ব্যস্ততার শেষ নেই। বিচ বাইক মালিক, ঘোড়াওয়ালা, ফটোগ্রাফার থেকে শুরু করে শামুক-ঝিনুক ও বার্মিজ পণ্যের দোকানিরা নতুন করে সাজিয়েছেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত শত শত হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট, পাশাপাশি নিরাপত্তায় থাকছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড।
ফটোগ্রাফার করিম আলী বলেন, গত এক মাস রমজানে পর্যটক কম থাকায় কাজ তেমন হয়নি। তবে ঈদকে সামনে রেখে এখন পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি, ফলে কাজের সুযোগও বাড়বে।
ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, রমজান মাসে পর্যটক কম থাকায় ব্যবসা তেমন জমেনি। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটক বাড়লে ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।
আচারের দোকানদার জিয়াউল হক বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের বার্মিজ আচার, চকলেটসহ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে নানা পণ্য সংগ্রহ করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা সাধারণত আচার, চকলেট ও শুঁটকি কিনতে বেশি আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তাই ঈদে পর্যটকের আগমন বাড়বে এবং ব্যবসাও ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লাবণী শুঁটকি বিতানের স্বত্বাধিকারী শামশেদ আলম বলেন, ঈদ উপলক্ষে সাত দিনের ছুটিকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের শুঁটকি দিয়ে দোকান সাজানো হয়েছে। এ সময়ে পর্যটকদের আগমন বাড়বে এবং তাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে, পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজারের ৫ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। এরই মধ্যে হোটেলগুলোর কক্ষ বুকিং হয়েছে ৭০ শতাংশ। পর্যটকদের ঈদ আনন্দ দিতে থাকছে নানা আয়োজনও।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা প্রায় এক সপ্তাহের ছুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন হোটেলে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদের পরবর্তী ছুটিতে প্রতিদিন অন্তত লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করবেন।
লেইজার হোটেলিয়ার্স অব বাংলাদেশ কক্সবাজার জোনের সভাপতি আবু তালেব শাহ বলেন, রমজানের পর ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষায় আছেন তারা।
তিনি জানান, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে থাকা সংশয় দূর হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এখন ভালো। আর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে লাইফগার্ড কর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সৈকতে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী জহিরুল ইসলাম বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফগার্ড সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
সমুদ্র এখন উত্তাল থাকায় পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে লাইফগার্ডের উপস্থিতিতে সমুদ্রে নামা উচিত।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি টিম এবং গোয়েন্দা টিম মাঠে কাজ করছে।
এ জাতীয় আরো খবর..