পাহাড় সমুদ্র সমতলের হাতছানি চট্টগ্রামে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-১৯, | ১১:২৬:১৬ |

পবিত্র রমজান শেষে ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, মিলনমেলা আর পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর বিশেষ সময়। অনেকেই আগেভাগেই পরিকল্পনা করেন—কোথায় ঘুরবেন, কোথায় থাকবেন, কীভাবে সময় কাটাবেন। ভ্রমণপিপাসুদের এই চাহিদাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের বিনোদনকেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে চাঙাভাব দেখা দিয়েছে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতেও।


চট্টগ্রামে যেকোনো পর্যটক বেড়াতে এলে একসঙ্গে পাহাড় সমুদ্র ও সমতল—এ তিন স্থানের বিনোদন গ্রহণ করতে পারেন। পতেঙ্গা, পারকি চর, সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে সাগরের জলকেলিতে মেতে উঠতে পারেন। প্রতি বছর চট্টগ্রামের ২১টি চা বাগানে ভিড় করেন পর্যটকরা। চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমি, ভাটিয়ারি, বাটালি হিল, ভূজপুর সংরক্ষিত বনাঞ্চল, মিরসরাইয়ের মহামায়া লেকে বেড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের মধ্যে মাটি-টা ইকো রিসোর্ট, সি-ওয়ার্ল্ড, রেলওয়ে জাদুঘরসহ একাধিক স্থান রয়েছে। এছাড়া শিশুপার্ক-চিড়িয়াখানা তো আছেই। 


ঈদের ছুটিতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, খোলা আকাশ আর সাগরের ঢেউ—সব মিলিয়ে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর আদর্শ স্থান। দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।


শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটু নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে অনেকে ছুটে যান বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকতে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর কাঠের সেতুটি এখানে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে।


কর্ণফুলী টানেল হয়ে খুব কম খরচে যাওয়া যায় পারকি চর বিচে। যেখানে যাওয়া মানেই হলো এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো। সমুদ্রের সঙ্গে টানেল দেখাও হয়ে গেল। 
ঈদকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে অগ্রিম বুকিং বাড়ছে। পরিবারভিত্তিক প্যাকেজ, বিশেষ ছাড় এবং উন্নত সেবার মাধ্যমে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। পর্যটন খাতেও ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।


জানা গেছে, প্রতি বছর রমজানের ঈদের টানা ৯ থেকে ১০ দিনের সরকারি ছুটি থাকে। এবার এ ছুটিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে শিক্ষার্থীদের স্কুল রমজানে বন্ধ থাকা। তাই দীর্ঘ সময় নিয়ে অনেকে পরিবারকে নিয়ে কোথায় যাবেন, কী খাবেন, কোথায় থাকবেন সব কিছু ঠিক করে নিচ্ছেন। কারণ, তাদের হাতে যথেষ্ট সময়। ঈদের ছুটিতে বিনোদনকেন্দ্র, হোটেল-রিসোর্টসহ সব জায়গাতেই চলছে পর্যটকদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। অনেক হোটেল-মোটেলে আগাম বুকিংও চলছে। এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহামায়া লেকে বেড়েছে অতিথি পাখির আনাগোনা। চা বাগানগুলোতে সবুজের সমারোহ। আসন্ন ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের জন্য যেন সেজেগুজে অপেক্ষায় প্রকৃতি। 


এদিকে অতিথিদের সেবা দিতে ধোয়ামোছা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নতুন করে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন হোটেল-মোটেল। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নতুনত্ব আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সব স্থানের হাতের ছোঁয়ায় করা হচ্ছে চকচকে-ঝকঝকে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে বিনোদনকেন্দ্রগুলো। 


বায়জিদ এলাকায় গেলে দেখা যাবে, পাহাড়ের বুক চিড়ে বয়ে গেছে সড়ক। সড়কের পাদদেশে গড়ে ওঠেছে রেস্তোরাঁ। পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আদর্শ স্থান এটিও। এ সড়ক দিয়ে ফৌজদারহাট গেলে পাওয়া যাবে পতেঙ্গা যাওয়ার সড়ক। বঙ্গোপসাগরের উপকূল ধরে সড়ক চলে গেছে পতেঙ্গা টানেলে। এ সড়ক দিয়ে গেলেই মন চাঙা হয়ে যাবে পর্যটকদের। সড়কে নোঙর করা ছোট-বড় জাহাজ দেখা যাবে চোখের সামনেই। 
চট্টগ্রামের শহরতলিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে বিনোদনের সমন্বয় রয়েছে ফয়’স লেকে। নৌকাভ্রমণ, বিভিন্ন রাইড ও পারিবারিক এবং করপোরেট পিকনিকের জন্য এটি জনপ্রিয়।

ঈদ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন ও বাড়তি সেবা রাখা হয় দর্শনার্থীদের জন্য। সব বয়সী মানুষের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন ফয়’স লেক কনকর্ডে। পুরো পার্কজুড়ে রয়েছে নজরকাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে আধুনিক বিনোদন ব্যবস্থা।

বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, পাইরেট শিপ, ফেরিস হুইলসহ আরও অনেক রাইড রয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্য হ্যাপি জাম্প, পনি অ্যাডভেঞ্চার, বেবি ড্রাগন, সার্কাস ট্রেন, বাম্পার বোটসের মতো রাইডস, যা ছোটদের মন জুগিয়ে রাখে সারাক্ষণ।

ঈদ উপলক্ষে বাড়তি দর্শনার্থী আকর্ষণ ও সেবা প্রদানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কে নতুন ছয়টি রাইড স্থাপনের কাজ চলছে। নতুন এই রাইডগুলো হলো—স্কাই হুপার মিডি ড্যান্স, কিডল হুইলস, কিডল টাওয়ার, এয়ারবোন শট ও ফ্লাইং বাস।

কৃত্রিম ঢেউয়ের জোয়ারে ভরপুর এই ওয়াটার পার্কে আছে বিভিন্ন রকমের ওয়াটার রাইডস যেমন—ওয়েভ পুল, মাল্টি স্লাইড, ড্যানসিং জোন ইত্যাদি। 


ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ভিন্ন ধর্মী সব অ্যাডভেঞ্চার অ্যাক্টিভিটি যেখানে সারা দিন দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ফয়’স লেক বেইসক্যাম্প জন্য উপযুক্ত স্থান এই ঈদে। খোলা আকাশের নিচে আর্চারি, ক্লাইম্বিং ওয়াল, ট্রি টপ অ্যাক্টিভিটি কিংবা বিশাল ফয়’স লেকে কায়াকিং বা বোট রাইড যেকোনো দর্শনার্থীকে চাঙা করে তুলবে নিমিষেই।


প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, রমজানেরঈদকে সামনে রেখে হাতের ছোঁয়ায় সবকিছু পরিষ্কার করা হচ্ছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে ফয়’স লেক। আশা করছি পর্যাপ্ত ব্যবসা এবার হবে। 


চট্টগ্রামের পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লু-এর সেলস ম্যানেজার মোহাম্মদ ফয়সাল কবীর  বলেন, হোটেল রেডিসন ব্লু ঈদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ঈদ পালন করতে ঈদের দিন নতুন করে সাজানো হবে রেডিসনকে। হোটেল রুমের জন্য রমজানের ফ্যামিলি অফার চলছে। এখন থেকে অনেকেই খোঁজখবর নিচ্ছেন ঈদের ছুটিতে রেডিসনে থাকার জন্য। 


চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডাক্তার শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ঈদ উপলক্ষে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হয়। এবারও কমতি হবে না। ঈদে দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে নতুন করে সাজছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। নতুন করে রঙের কাজ চলছে। পানির ব্যবস্থা, পয়োনিষ্কাশন সবকিছু ঠিক করা হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে এখন থেকে চাঙাভাব কর্মীদের মনে। 

চট্টগ্রাম রিজিয়নের ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার উত্তর প্রসাদ পাঠক বলেন, রমজানের ঈদকে কেন্দ্র করে ভ্রমণপিপাসুরা বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে ভিড় করেন। লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনা রেখে ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রামের ট্যুরিস্ট পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তার জন্য কাজ করবে। ঈদের আগের পাঁচদিন ঈদের দিন ও ঈদের পরের পাঁচদিনকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। আশা করছি এবারের ঈদে পর্যটকরা খুবই নিরাপদে থাকবে চট্টগ্রামে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..