তেহরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরান ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে চীন। একইসঙ্গে উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেহরানের হামলারও সমালোচনা করেছে বেইজিং।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, এই যুদ্ধ ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতে ‘গুরুতর মানবিক বিপর্যয়’ নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, চীন ইরান, জর্ডান, লেবানন এবং ইরাককে জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এটি স্থানীয় জনগণের মানবিক দুর্দশা দূর করতে সাহায্য করবে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তিনি আরও বলেন, চীন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং মানবিক সংকটের আরও বিস্তার রোধ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি যুদ্ধে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত দেশটির বিশেষ দূত ঝাই জুনকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই-ও বলেছেন, এই যুদ্ধ “কখনোই হওয়া উচিত ছিল না” এবং তিনি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে ওয়াশিংটনকে সাহায্য করার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যেটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ চলাচল করে।
ইরাকের তেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তাদের কয়েকটি তেল ট্যাংকারের যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে দেশটি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তেলমন্ত্রী হায়ান আবদেল গনি স্থানীয় টিভি চ্যানেল আল-শারকিয়াকে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু তেল ট্যাংকারের যাতায়াতের অনুমতি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, যাতে রপ্তানি পুনরায় শুরু করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে এই জাহাজগুলোর পরিচয়, নাম, সংস্থা এবং মালিক সম্পর্কে তাদের জানাতে হবে।
সূত্র: এএফপি।
এ জাতীয় আরো খবর..