ঈদে যাত্রাপথে নিরাপদ থাকতে গুরুত্ব দিন ৩ আমলে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-১৮, | ১৩:৪৬:২৩ |
ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদুল ফিতর অর্থ রোজা খোলার আনন্দ। কিন্তু কেন সেই আনন্দ? আনন্দের জন্য তো কোনো কারণ থাকতে হবে! সুখবর পেলেই তো মানুষ আনন্দিত হয়! এক মাস রোজার সাধনার পর এই দিনে সেই সাধনার পুরস্কার হিসেবে ক্ষমা পাওয়াই সেই আনন্দের কারণ। 

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা ঈদের দিন ফেরেশতাদের মধ্যে রোজাদারদের নিয়ে গর্ব করে বলেন, ‘হে ফেরেশতারা, আমার কর্তব্যপরায়ণ প্রেমিক বান্দার বিনিময় কী হতে পারে?’ ফেরেশতারা বলেন, ‘হে প্রভু, পুণ্যরূপে পুরস্কার দান করাই তো তার প্রতিদান।’ 

আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব (রোজা) পালন করেছে। অতঃপর দোয়া করতে করতে ঈদগাহে গমন করেছে। সুতরাং আমার মর্যাদা, সম্মান, দয়া ও বড়ত্বের কসম! আমি তাদের দোয়া কবুল করব এবং তাদের মাফ করে দেব।’ (বায়হাকি, হাদিস : ৩৪৩)

রোজার পর আনন্দের এই মুহূর্তটি পরিবারের সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করেন সবাই। তাইতো শত বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে দীর্ঘ পথের যাত্রা শেষে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে যান পরিবারের কাছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার এই অনেক সময় বিষাদে পরিণত হয় সড়কের বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণে। দীর্ঘ যাত্রাপথে নিরাপদ থাকতে তিনটি আমলে গুরুত্ব দিন—


১. একা সফর এড়িয়ে চলুন

যাত্রা দীর্ঘ হলে যথাসম্ভব একা সফর এড়িয়ে চলুন। একাকী সফর নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি করে। সুতরাং ভালো কাউকে সফরসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করুন। 

রাসুল (সা.) একা যাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, সঙ্গীহীনতায় কত কী সমস্যা! আমি যেমন জানি, তোমরাও জানলে রাতে একাকী কখনো সফর করার সাহস পেতে না। (বুখারি, হাদিস: ২৯৯৮)

২. যাত্রা শুরুর আগে নামাজ পড়ুন

যাত্রার সবকিছু ঠিক হয়ে গেলে বের হওয়ার আগে দুই রাকাত নামাজ পড়া উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সফরকারী তার পরিবারের জন্য দুই রাকাত নামাজের চেয়ে ভালো কিছু রেখে যায় না। (মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা, হাদিস : ৪৯১২)

৩. যানবাহনে উঠার দোয়া পড়ুন

এলাকা ভেদে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে যাত্রীরা। কেউ বাসে, কেউ নৌযানে, কেউ বিমানে। যেই ধরনের যানবাহনেই সফর করুন না কেন, সফর শুরুর আগে সফরের জিকির এবং দোয়াগুলো পড়ুন। গাড়িতে উঠে পড়বেন, ‘সুবহানাল্লাজি সাখখরা লানা হাজা ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিন।’

অর্থাৎ ‘পবিত্র ওই সত্তা, যিনি এটিকে আমাদের আয়ত্তাধীন করেছেন, অথচ আমরা একে নিজেরা আয়ত্তাধীন করতে পারতাম না।’ 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..