বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বসে নেই, মাঠে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই সারা দেশে নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি সরকার। দেশের জলাবদ্ধতা দূর করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার লক্ষ্যে সরকার দ্রুত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’
এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘খাল খনন কার্যক্রমে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।’
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নে মুরালী ভাবকি খাল খনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি নিজ হাতে মাটি কেটে খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, ‘সাম্প্রতিক কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলের অনেক কৃষকের আলু ক্ষেত পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে।
আবার শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচের পানির অভাবেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। খাল খনন সম্পন্ন হলে বর্ষাকালে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি দ্রুত নেমে যাবে এবং শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করে সহজেই সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘খাল খননের মাধ্যমে শুধু পানি নিষ্কাশনের সুবিধাই বাড়বে না বরং খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন ধরনের ফলজ গাছ রোপণ করা হবে। ফলে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে দেশের সম্পদও বৃদ্ধি পাবে।’
জনগণের কল্যাণে সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতিমধ্যে দেশে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয়ের পুরোহিতদের জন্য সম্মানি ভাতা চালু করেছে সরকার। অতীতে কোনো সরকার এমন উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমানে এটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় সেবাদানকারীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন।’
অনুষ্ঠানে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার রহমান, সদ্যঘোষিত জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াদুল ইসলাম, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা,কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদ আলমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলার হারাইল, ঘোলাগাড়া, রত্নাহার ও মুরালী ভাবকি—এই চারটি খাল মিলে মোট ১৫ হাজার ৩১০ মিটার খাল খননের জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কালাই উপজেলার মুরালী ভাবকি খালের প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিটার অংশ খননের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা। খনন কাজগুলো বাস্তবায়ন ও তদারকি করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয়রা মনে করছেন, খালটি খনন করা হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়বে। ফলে এলাকার কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..