দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন অনিয়ম আর সংঘাতের খবর ঠিক তখনই সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে সামনে এলো রাজধানীর সবুজবাগের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মন্দির। প্রতিবছরই এখানে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য চিত্র দেখা যায়।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই মন্দিরে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ইফতারির আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ’। ধর্মীয় ভেদাভেদ না করে ইফতারের এ উপহার গ্রহণ করেন মুসলমানরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকার প্রথম বৌদ্ধবিহার হিসেবে পরিচিত সবুজবাগে অবস্থিত ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
এদিন ইফতারের আগ মুহূর্ত থেকেই মন্দিরের সামনে জড়ো হতে থাকেন রোজাদাররা। প্রথমে তাদের হাতে দেওয়া হয় টোকেন। পরে সেটি নিয়ে গেলে বিহারের ভেতর থেকে দেওয়া হয় ইফতারিভর্তি একটি বক্স।
স্ত্রী খুদেজা বিবির কাঁধে ভর দিয়ে বৌদ্ধ মন্দিরে এসেছেন তোতা মিয়া। সারাদিন রোজা রেখে এখানকার ইফতারি দিয়েই তিনি পূর্ণ করবেন আরও একটি রোজা। প্রতিদিন বিকেলে বৃদ্ধ তোতা হাজির হন রাজধানীর বাসাবোর এই বিহারে। যেখানে মাসজুড়ে ইফতার দেওয়া হয় রোজাদারদের।
এই দম্পতির মতো আরও অনেকেই ছুটে আসেন এখানে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের দরজায় অপেক্ষা করেন প্রায় ১০০-১৫০ জন মানুষ। বিকেল ৫টা থেকে দেওয়া হয় টোকেন। এরপর একে একে কার্ড নিয়ে সামনে এলেই তাদের হাতে ইফতারি তুলে দেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ব্রহ্মাণ্ড প্রতাপ বড়ুয়া জানান, প্রায় ১৩ বছর ধরে আমাদের এই ইফতারি বিতরণ কার্যক্রম চলে আসছে।
স্থানীয়রা আনন্দের সঙ্গে এখান থেকে ইফতারি গ্রহণ করেন। এটি আমাদের মধ্য সম্প্রীতির বন্ধনকে আরো দৃঢ় করছে।
এ জাতীয় আরো খবর..