বসন্তে হঠাৎ ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। শুক্রবার ছুটির দিনের সন্ধ্যায় নামা ঝুম বৃষ্টিতে দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমজমাট বইমেলার নিমিষেই ঘটেছে ছন্দপতন। বেশিরভাগ স্টল-প্যাভিলিয়নই গুছিয়ে উঠতে না পারায় ভিজেছে বই। বাংলা একাডেমির মূল আয়োজন মঞ্চসহ প্রাঙ্গণের অনেক জায়গার স্টলের সামনে জমেছে পানি।
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বৃষ্টি শেষে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, হঠাৎ করে বৃষ্টি আসায় বইমেলার বেশিরভাগ স্টলই পূর্বপ্রস্তুতির অভাবে পরিপূর্ণভাবে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। কোনোভাবে পলিথিন দিয়ে ঢেকে বইগুলো ভেজা থেকে রক্ষার চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশ স্টলেই ভিজেছে সামনের সারিতে থাকা কিছু বই। তবে কেউই বড় কোনও ক্ষতির সম্মুখীন হননি। অনেক স্টল তাদের ভেজা বই ও স্টল ঠিকঠাক করতে ব্যস্ত।
তবে ঝড়-বৃষ্টির এই বাধা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা সারতে অনেক পাঠককে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই মেলায় অবস্থান করতে দেখা গেছে।
দিনটি মেলার শেষ শুক্রবার হওয়ার পাশাপাশি ছিল পঞ্চম ‘শিশুপ্রহর’, যা মেলা প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনে। সকাল থেকেই অভিভাবকদের হাত ধরে মেলায় আসতে শুরু করে শিশুরা। বায়োস্কোপ, প্রিয় চরিত্রের গল্প আর নতুন বইয়ের ঘ্রাণে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। তবে জুমার নামাজের সময় মেলায় কিছুটা স্থবিরতা বিরাজ করলেও বিকাল ৩টার পর থেকে দর্শনার্থী ও পাঠকদের সমাগম দ্রুত বাড়তে থাকে। ইফতারের সময় ভিড় কিছুটা কমলেও মাগরিবের পর আবারও মেলা প্রাঙ্গণ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
মেলায় ঘুরে দেখা যায়, পাঠকেরা বিভিন্ন স্টলে গিয়ে নতুন প্রকাশিত বই দেখছেন ও কিনছেন। কেউ কেউ আবার খুঁজছেন ছাড়ের সুযোগ। বিশেষ করে উপন্যাস, গল্পসংকলন ও সমসাময়িক প্রবন্ধের বইয়ের সামনে পাঠকদের ভিড় বেশি ছিল। বিক্রি খুব বেশি না বাড়লেও প্রকাশকদের মতে, দর্শনার্থীর উপস্থিতির দিক থেকে দিনটি এবারের মেলার অন্যতম ব্যস্ত দিন।
উল্লেখ্য, আগামী রোববার শেষ হবে এবারের বইমেলা।
এ জাতীয় আরো খবর..