সর্বশেষ :
আ. লীগ দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল : রাষ্ট্রপতি নিজামী, কাদের মোল্লা, সাঈদীর জন্য সংসদে শোকপ্রস্তাব ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩ অধ্যাদেশ উপস্থাপন, দেখুন তালিকা ইরাক উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলায় ভারতীয় ক্রু নিহত জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা কার্পেটশিল্পে মুসলমানদের অবদান রাষ্ট্রপতির ৩ অপরাধে ভাষণ বর্জন : জামায়াত আমির হাজারো শহীদের রক্তে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল সংসদে বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন, নেতৃত্বে যারা

কার্পেটশিল্পে মুসলমানদের অবদান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-১২, | ১৬:৪৮:১৯ |
ইরাক ও ইরানের আরবাঞ্চলে কার্পেটশিল্পের প্রসার ঘটে ইসলাম আগমনের বহু পূর্বে। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলগুলোর পশম ও সুতার উৎকৃষ্ট মানের জন্য বিখ্যাত ছিল। আরব অঞ্চলের দরবারগুলোতে এই কার্পেট, পাটি ও জায়নামাজের বিশেষ অবস্থান ছিল।

ইসলামের আগমনের পর কার্পেটশিল্পে নতুন মাত্রা আসে।

বিশেষ করে জায়নামাজ তৈরির সঙ্গে এটি সংযুক্ত হয়। মুসলিম সমাজে ইবাদত ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য দৃষ্টিনন্দন কার্পেট ও জায়নামাজ তৈরি হতে শুরু করে, যা কেবল ব্যবহারের জন্য নয়, বরং সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হত।

আর্মেনিয়া অঞ্চলের তাঁতীরা আরব অঞ্চলের উন্নতমানের পশম ও সুতোর সাহায্যে সুন্দর পাটি তৈরি করত। মিসান অঞ্চলেও উচ্চমানের কার্পেট ও জায়নামাজ তৈরির ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ছিল।

সেই সঙ্গে রেশমি পর্দা, বিছানার চাদর, গালিচা ও বালিশও বিস্তৃতভাবে উৎপাদিত হতো। হিরা শহর স্বল্পমূল্যের মানসম্পন্ন কাপড়ের জন্য পরিচিত ছিল, যা ‘তানাফিস’ নামে পরিচিত।

মুসলিম শাসনামলে আরব অঞ্চলে রঙিন ও ছাপা পোশাকের প্রচলন শুরু হয়। এসব পোশাকে ফুল, গাছ, পাখি ও প্রাণীর ছবি নকশা করা হতো।


মসুল অঞ্চলে উৎপাদিত পর্দা ও পাপোস বিশ্ববাজারে রপ্তানি হতো, যা আরব ও পাশ্চাত্য রাজদরবারগুলোতে প্রসিদ্ধি পেত। (জাহেজ, আত-তাসসুর বিল তিজারা, পৃ. ৩২; আসরুন নুহদা ফিল ইসলাম, খণ্ড-২, পৃ. ৩০৪)

মিসরের ফুয়ুম শহর মূল্যবান পর্দা, দীর্ঘ বিছানা ও পশমের তাবুর জন্য বিখ্যাত। কখনো কখনো একটি পর্দার দৈর্ঘ্য ৩০ গজেরও বেশি হতো এবং মূল্য তিনশো স্বর্ণ মুদ্রারও বেশি। হিরা ও আর্মেনিয়া অঞ্চলেও উন্নতমানের কার্পেট ও জায়নামাজ তৈরি হত। ইবনে জাওঝি ২৯৯ হিজরির ঘটনা প্রবাহে বর্ণনা করেছেন, ‘আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান অঞ্চলের গভর্নর ইউসুফ বিন আবিস-সাজা খলিফা মুকতাদির বিল্লাহর নিকট পাঠানো উপঢৌকনে আর্মেনীয় বিছানার চাদরও ছিল।

একটি বিছানা ছিল দৈর্ঘ্যে ৭০ গজ এবং প্রস্থে ৬০ গজ, যা তৈরি হতে লেগেছিল প্রায় ১০ বছর। কেউ তার মূল্য নির্ধারণ করতে পারছিল না।’ (ইবনে জাওঝি, আল মুনতাজিম ফি তারিখিল মুলুকি ওয়াল উমাম, খণ্ড-৬, পৃ. ১১০)

পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম পূর্ব আরবাঞ্চলে কার্পেট ও জায়নামাজ শিল্প কেবল একটি শিল্পকলার আকারেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও সামাজিক ব্যবহারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। উন্নতমানের কার্পেট, জায়নামাজ, পর্দা ও বালিশ শুধুমাত্র সৌন্দর্য বৃদ্ধি করত না, বরং এটি সামাজিক মর্যাদা ও অভিজাত্য প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। ইসলামের আগমনের পর শিল্পকলায় যুক্ত হওয়া জায়নামাজের নকশা ও কারুকার্য এই অঞ্চলের শিল্পের ধারাবাহিকতা ও বিশ্ববাজারে খ্যাতি নিশ্চিত করেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..