এক গম্বুজের ছোট্ট এক প্রাচীন মসজিদ। বাইরে থেকে সাধারণ মনে হলেও ভেতরে ঢুকলেই যেন অনুভব করা যায় শতাব্দী পেরিয়ে আসা ইতিহাসের নীরব উপস্থিতি। কে নির্মাণ করেছিলেন, কবে নির্মাণ হয়েছিল তা আজও অজানা। তাই মানুষের কাছে মসজিদটি পরিচিত হয়ে উঠেছে রহস্যঘেরা গায়েবি মসজিদ নামে।
এই মসজিদটি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানি ইউনিয়নের চিকাজানি গ্রামে।
গ্রামের শান্ত পরিবেশের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন নামাজ আদায় করতে। ছোট আয়তনের হলেও এর স্থাপত্যশৈলী ও গঠন বেশ দৃষ্টিনন্দন। চারটি পিলার বা স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে পুরো স্থাপনাটি।
সামনে রয়েছে একটি দরজা এবং দুই পাশে দুটি জানালা। আর বড় আকৃতির গম্বুজ, যা দূর থেকেই চোখে পড়ে। বর্তমানে নামাজ পড়ার জায়গা বাড়ানোর জন্য প্রাচীন মসজিদটির বারান্দার অংশে নতুন করে তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।
মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে। তবে অনেকেই বলছেন ৭০০ থেকে ৮০০ বছর আগের এই মসজিদ। ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য দলিল না থাকলেও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রচলিত নানা গল্প রয়েছে এই মসজিদকে ঘিরে।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা বলছেন, একসময় পুরো এলাকাটি ঘন জঙ্গল আর উঁচু-নিচু মাটিতে ঢাকা ছিল। সেই সময়ে জঙ্গলের মধ্যেই হঠাৎ একদিন মানুষের চোখে পড়ে লতাপাতায় ঢাকা এক ছোট পরিত্যক্ত মসজিদ।
পরে মসজিদটি পরিষ্কার ও সংস্কার করা হয়। তখনই এটি আবার নামাজের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে। সেই সময় মসজিদের ভেতরে পুরনো কিছু কিতাব ছিল, যা ফরাসি ও উর্দু ভাষায় লেখা ছিল। সেই কিতাবগুলো পোকা ধরে নষ্ট হয়ে পড়ছিল, তাই বইগুলো সংরক্ষণ করা যায়নি।
স্থানীয় আবদুল্লাহ মিয়া নামে একজন বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে গায়েবি মসজিদটি কে তৈরি করেছিলেন, তার সঠিক তথ্য-প্রমাণ কিংবা ইতিহাস কারো জানা নেই। তবে এটির বয়স ৭০০ থেকে ৮০০ বছর হতে পারে। প্রাচীন মসজিদের সঙ্গে টিনের বারান্দা ছিল। পরে টিনের বারান্দা সরিয়ে নতুন করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।’
মসজিদের মোয়াজ্জেম নূরুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদের ইতিহাস আজও অজানা। কেউ কোনো সঠিক ইতিহাস বলতে পারে না। আমাদের বাপ-দাদার কাছ থেকে শুনেছি তাদের বাপ-দাদারাও এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন। মসজিদটিতে অনেক আগে থেকেই সকাল ও বিকেলে ছোট ছেলেমেয়েদের মক্তব পড়ানো হতো, এখনো সেটি চলমান রয়েছে। শুক্রবারে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন এসে নামাজ আদায় করেন।’
মসজিদের ইমাম মো. মূসা বলেন, ‘প্রাচীন মসজিদটির নকশা এখনো একেবারে ঝকঝকে এবং সুন্দর রয়েছে। এখানে জুমার নামাজ আদায় করতে এসে অনেকেই বলেন, এখানে নামাজ আদায় করে এক ধরনের আলাদা প্রশান্তি অনুভব করেন।’
এ জাতীয় আরো খবর..