সর্বশেষ :

আল-আকসায় রমজানের তৃতীয় জু মা আদায় করতে পারেননি ফিলিস্তিনিরা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-০৭, | ১৪:১৮:৪৫ |
ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার অজুহাতে টানা অষ্টম দিনের মতো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। শুক্রবার, ৬ মার্চ রমজানের তৃতীয় জুমার নামাজ আদায়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল ইসরায়েলি পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে। 

জেরুজালেম গভর্নরেট ও ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আল-আকসা প্রাঙ্গণ জনমানবহীন পড়ে আছে। ভোরের আজান ধ্বনিত হলেও সেখানে কোনো মুসল্লিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সূর্যোদয়ের পর আল-আকসার বিশাল চত্বর পুরোপুরি খালি পড়ে থাকার দৃশ্য ফিলিস্তিনিদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এর আগে রমজানের প্রথম ও দ্বিতীয় জুমায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল দখলদার বাহিনী। সে সময় পশ্চিম তীরের পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫৫ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৫০ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করে মাত্র ১০ হাজার মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার ইরান-সংঘাতকে সামনে এনে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পবিত্র এই মসজিদ।


এই পদক্ষেপকে শতাব্দীর সেরা প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি আন্দোলনকর্মীরা। তাদের দাবি, ইসরায়েল মূলত আল-আকসা বন্ধ করার একটি উছিলা খুঁজছিল এবং এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয় দেখিয়ে সেই কাজটিই করছে। অথচ জেরুজালেমের ভেতরে কট্টরপন্থি ইহুদিদের ধর্মীয় স্কুল বা তালমুদীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকই খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত উৎসব ও জমায়েত চলছে। ফিলিস্তিনিদের প্রশ্ন, ক্ষেপণাস্ত্রের ভয় কি শুধু মুসলমানদের জন্য? নাকি ইসরায়েলিদের শরীরে রকেট প্রতিরোধক কোনো বিশেষ ক্ষমতা আছে?


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক বলেন, এটি নেতানিয়াহুর একটি সুপরিকল্পিত মিডিয়া গেম। নিরাপত্তার কথা বলে তারা আসলে আল-আকসাকে মুসল্লিশূন্য করে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটি সাময়িক কোনো ব্যবস্থা নয়, বরং জেরুজালেমকে পুরোপুরি ইহুদিকরণের একটি অংশ।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রমজান মাসে তারাবিহ ও জুমার নামাজ বন্ধ করা শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং এটি আল-আকসার ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা বা স্ট্যাটাস-কো পরিবর্তনের একটি গভীর ষড়যন্ত্র। ফিলিস্তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে যে, আল-আকসা ও ইব্রাহিমি মসজিদে ইসরায়েলি হামলার মাত্রা এখন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

ফিলিস্তিনিদের মতে, আল-আকসাকে ঘিরে এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এখন অস্তিত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখলদারদের এই নরম যুদ্ধের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও প্রতিবাদই এখন তাদের একমাত্র পথ।

সূত্র : আল জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..