দেশের শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি’র উপস্থাপক কে এম হানিফকে (হানিফ সংকেত) ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক শেষে বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ বছর মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে এই সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এই তালিকায় সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য হানিফ সংকেতের নাম বিশেষভাবে স্থান করে নিয়েছে। এছাড়াও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ।
হানিফ সংকেত বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক, প্রযোজক, গায়ক, সুরকার ও গীতিকার। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ইতিহাস তুলে ধরছেন।
অভিনয় জগতেও হানিফ সংকেতের বিচরণ ছিল প্রশংসনীয়। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নির্মাণে ‘কুসুম’ নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়া চলচ্চিত্র অঙ্গনে ১৯৮৮ সালে ‘আগমন’ সিনেমায় খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি দর্শকদের চমকে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’ এবং ‘ঢাকা-৮৬’ এর মতো জনপ্রিয় সিনেমাগুলোতেও তাকে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, একই সভায় স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা।
এ জাতীয় আরো খবর..