উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অর্থনৈতিক বেহাল দশা বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেছেন, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক জাতীয় নির্বাচনের দুদিন আগে ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ অফিস করেছেন। সেদিন ৩৪ ফাইল সাইন করে গেছেন প্রশাসক এজাজ। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে এখন ভঙ্গুর অবস্থা। ফান্ড নেই। অথচ ১৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে ওয়ার্ক ওর্ডারও দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুুপুরে সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, উত্তর সিটির এখন ভঙ্গুর অবস্থা। ফান্ড নেই ১৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে ওয়ার্ক ওর্ডারও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ১২ তারিখে নির্বাচন হয়েছে। সাবেক প্রশাসক যিনি ছিলেন তিনি ১০ তারিখে শেষ অফিস করে ৩৪টি ফাইলে সই করে গেছেন। যেখানে ফান্ড দিতে হবে বিল দিতে হবে। আসলে টাকা নেই, আছে মাত্র ২৫ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, আয়-ব্যয় এবং রাজস্ব থেকে রেভিনিউ সেকশন-আমি কথা বলে যেটা জানতে পেরেছি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রতি মাসে স্যালারি আসে ১৩ কোটি টাকা। থাকবে ১২ কোটি। এখন বিচার বিশ্লেষণ আপনারাই করবেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কীভাবে করবো?
তবে মিল্টন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন, আমরা হতাশ নই। এভাবেই আমরা এগিয়ে যাবো। জনকল্যাণে যতোটুক সেবা দেওয়ার প্রয়োজন আছে আমরা সেই সেবা দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবো। জনকল্যাণে আমাদের যে অঙ্গীকার আছে সেটাকে আমরা বাস্তবায়ন করবো।
তিনি বলেন, মাত্র সাতদিন বয়স হয়েছে আমাদের। আপনারা (সাংবাদিক) আমাদেরকে একটু সহযোগিতা করবেন। আমাদের কাজ যাতে আরো সহজ উপায়ে করতে পারি এই ব্যাপারে আপনারা সহযোগিতা করবেন।
দখল উচ্ছেদ ও খাল খনন সম্পর্কে তিনি বলেন, একটু আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। সাত দিন হলো আমরা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নিয়েছি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উল্লেখযোগ্য ২৯টি খাল আছে। ২৯টি খালে আমরা পুনরায় বর্জ্য ব্যবস্থার কাজ শুরু করবো। যেখানে নাব্যতা কমে গেছে সেখানে কিন্তু আমরা এস্কেভেটর দিয়ে খননের মাধ্যমে পানি প্রবাহ সচল রাখার চেষ্টা চালাচ্ছি। এখন বলতে পারেন অনেকে বলে একবার করে এটা মনিটরিং করা হয় না। এটা অতীতে হয়েছে। অতীতে কি হয়েছে এটা আপনারাও জানেন। আমরাও জানি। ভবিষ্যতে আমরা কি করবো, সেটা আমরা বলতে পারবো।
'এই যে খাল খননের যে কর্মসূচিটা সেটা আমাদের পার্টির ম্যানিফেস্টোতে আছে এবং এই খাল খনন না করলে সামনে ডেঙ্গুর যে আবির্ভাব ঘটবে সেটা আমাদেরকে বিপদগ্রস্ত হতে হবে। তাই আমরা পুনরায় ও আগাম আমরা এটা করার চেষ্টা করছি। আর যেখানে খালের পানি আটকে যাচ্ছে, নর্দমা বা ময়লা আবর্জনা, ময়লার স্তুপ হয়ে আছে সেটাকে নিরসণে আমরা প্রতিদিন একদম রুটিন মাফিক কাজগুলো করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।'
দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও উচ্ছেদের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা ঈদের পরে শুরু করবো। আইন পরিবেশ সংস্থা আছে। সেখানে আমরা তাদেরকে নোটিশ দিয়ে কাজ শুরু করবো। দখলদার নিম্ন আয়ের বা ছিন্নমূল মানুষদের আলোচনার ভিত্তিতে তাদেরকে অন্য কোথাও একটা বাসস্থান করা যায় কিনা কিংবা তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা এটা সহজ উপায় বের করবো।
এ জাতীয় আরো খবর..