অটোমোবাইল বাজারে কিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় সাবকম্প্যাক্ট এসইউভি ‘সেলটোস’ এখন নতুন রূপে আসার অপেক্ষায়। সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইন, আধুনিক প্রযুক্তি ও হাইব্রিড ইঞ্জিনের সমন্বয়ে দ্বিতীয় প্রজন্মের ২০২৭ মডেলের সেলটোস উন্মোচন করেছে দক্ষিণ কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানটি। গত ৮ ডিসেম্বর এক অনলাইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সিইও হো সাং সং জানিয়েছেন, নতুন এই মডেলের মাধ্যমে তারা বছরে ৪ লাখ ৩০ হাজার ইউনিটের বেশি বিশ্বব্যাপী বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।
২০১৯ সালে প্রথম বাজারে আসার পর মাত্র পাঁচ বছরে সেলটোস বিশ্বজুড়ে ২০ লাখের বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। ২০২৪ সালে এর বিশ্বব্যাপী বিক্রি ছিল ৩ লাখ ১২ হাজারের বেশি, যা কিয়ার তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষ বিক্রীত এসইউভি। বর্তমানে এটি কিয়ার অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক মডেলে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, নতুন এই আধুনিক সংস্করণটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপসহ বিশ্বের সব প্রান্তে সাশ্রয়ী ও জুতসই বাহন হিসেবে জায়গা করে নেবে।
নতুন সেলটোস আগের তুলনায় দৈর্ঘ্যে কিছুটা বড় এবং এর হুইলবেসও বাড়ানো হয়েছে। এটি এখন ১৭৪.৪ ইঞ্চি দীর্ঘ। এই পরিবর্তনের ফলে গাড়ির ভেতরে যাত্রী ও মালামাল রাখার জায়গা (১৮.৯ কিউবিক ফিট) অনেকটা বেড়েছে। কিয়া জানিয়েছে, গাড়িটি এখন ‘কে২’ প্ল্যাটফর্ম থেকে উন্নত ‘কে৩’ প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই একই প্ল্যাটফর্ম হুন্দাই এলানট্রা এবং কিয়া নিরোর মতো জনপ্রিয় মডেলে ব্যবহৃত হয়। গাড়িটির বডিতে ৬১ শতাংশ উচ্চ শক্তিসম্পন্ন স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে, যা এর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
কিয়ার গ্লোবাল ডিজাইন প্রধান করিম হাবিব একে একটি শক্তিশালী এবং রুক্ষ পথ পাড়ি দেওয়ার উপযোগী বাহন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এতে ১৯ ইঞ্চির বড় চাকা এবং চারকোণা অ্যাঙ্গুলার ডিজাইন দেওয়া হয়েছে। সামনের গ্রিলটি বেশ চওড়া এবং এতে ‘স্টার ম্যাপ’ এলইডি লাইটিং ব্যবহার করা হয়েছে।
ভেতরের অংশে রয়েছে ৩০ ইঞ্চির একটি প্যানোরামিক ডিসপ্লে, যেখানে দুটি ১২.৩ ইঞ্চির স্ক্রিন ও ক্লাইমেট কন্ট্রোল প্যানেল রয়েছে। বিনোদনের জন্য বোস ও হারমান কার্ডনের সাউন্ড সিস্টেম থাকছে। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, এতে চ্যাটজিপিটি চালিত এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপদ ড্রাইভিং নিশ্চিত করতে এতে হাইওয়ে ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট ২ এবং অটোমেটিক লেন পরিবর্তনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
নতুন সেলটোসের সবচেয়ে বড় চমক এর হাইব্রিড ইঞ্জিন। যদিও এর কারিগরি তথ্য এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি হুন্দাই কোনা হাইব্রিডের মতো ১.৬ বা ১.৮ লিটারের গ্যাসোলিন ইঞ্জিনের সঙ্গে ইলেকট্রিক মোটরের সমন্বয়ে তৈরি হবে। হাইব্রিড ছাড়াও গ্রাহকরা ১.৬ লিটার টার্বো বা ২.০ লিটার ন্যাচারাল অ্যাসপিরেটেড ইঞ্জিন বেছে নিতে পারবেন। ১.৬ লিটার ইঞ্জিনে সর্বোচ্চ ১৯০ হর্সপাওয়ার পাওয়া যাবে। ইকো, নরমাল ও স্পোর্ট তিনটি মোডে গাড়িটি চালানো যাবে এবং অল-হুইল ড্রাইভের সুবিধাও থাকছে।
আগামী ডিসেম্বর থেকে ভারতের কারখানায় এর উৎপাদন শুরু হবে। পরে কোরিয়া ও চীনেও উৎপাদন সম্প্রসারিত হবে। আইসবার্গ গ্রিন ও ম্যাগনা রেডসহ আকর্ষণীয় সব রঙে পাওয়া যাবে এই গাড়ি।
এ জাতীয় আরো খবর..