ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে আজ থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও বাস টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে সরেজমিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, বিমানবন্দর, আজমপুর, হাউজবিল্ডিং, টঙ্গী ও আবদুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন অনেকেই। পরিবার-পরিজন ও ব্যাগ-পোঁটলা হাতে গন্তব্যে ফেরার অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, এই ভিড়ের সুযোগে বাস মালিক ও শ্রমিকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দাবি করা হলেও গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করেই রওনা হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
উত্তরার বিএনএস বাসস্ট্যান্ডে আব্দুল মালেক নামের এক পোশাকশ্রমিক বলেন, ভোট দেওয়ার জন্যই বাড়ি যাচ্ছি। সরকার ছুটি দিয়েছে, এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু বাসের ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে। ২০০ টাকার ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা চাচ্ছে। এখন বাড়তি ভাড়া দিয়েই যেতে হবে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীগামী যাত্রী শাহানা আক্তার বলেন, অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। গাড়ির তুলনায় যাত্রী অনেক বেশি। কষ্ট হলেও বাড়ি ফিরতে পারছি, এটাই শান্তি।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকার ১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ভোটগ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) আগেই সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষিত ছিল। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি কার্যকর থাকবে।
এ জাতীয় আরো খবর..